হোম » সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরছেন খালেদা, রাজনীতিতে বাঁক পরিবর্তন

সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরছেন খালেদা, রাজনীতিতে বাঁক পরিবর্তন

admin- Wednesday, August 2nd, 2017

জামান সরকার, ফিনল্যান্ড থেকে : খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে। কেউ কেউ তার এই সফরকে দেখছেন দেশে-বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ‘টনিক’ হিসেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ঈদের পর খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে ভিন্ন বাঁক তৈরি হবে রাজনীতিতে, সংঘাত সংগ্রাম কাটিয়ে  উজ্জীবিত বিএনপিকে নিয়ে ভোটের সমীকরণে দেখা যাবে নতুন হিসেব-নিকেশ। বিএনপির অনুপস্থিতিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও রাজনীতির মাঠ ও বিতর্কে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড দেশে-বিদেশে বেশ সমীহের চোখে দেখেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। জাতীয় পার্টির বিরোধী দলীয় খেতাবটি তাই ‘খাতায়-কলমে’ সীমাবদ্ধ। সব মিলিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার এই লন্ডন সফর এবং সেখানে অবস্থান বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দলীয় চেয়ারপারসনের সফর নিয়ে কথা হয় লন্ডনে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমানের সঙ্গে। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছেন কিনা- জানতে চাওয়া হলে মাহিদুর রহমান বলেন, “বিএনপি বরাবরই নির্বাচনমুখী দল। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল। জনগণের প্রতি আস্থাশীল দল। ম্যাডাম আগেও বলেছেন, এখানে এসেও বলেছেন, তিনি দেশে ফিরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন।” দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে খালেদা জিয়া বদ্ধপরিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য ১৫ জুলাই থেকে খালেদা জিয়া লন্ডনে থাকছেন ছেলে তারেক রহমানের বাসায়, যিনি বিএনপিতে মায়ের পরের পদটিতে রয়েছেন। সেখানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ছাড়াও প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও রয়েছেন। যুক্তরাজ্যে থাকা ছেলের সঙ্গে প্রবাসেই খালেদা জিয়া মিলিত হয়ে আসছেন গত এক দশক ধরে। খালেদা জিয়ার এই সফরের পেছনে ‘ষড়যন্ত্রের’ শঙ্কা প্রকাশ করে সরব আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তবে বিএনপি নেতারা বরাবরই বলে আসছেন, ষড়যন্ত্র নয়, বরং ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণই তাদের লক্ষ্য। লন্ডনে প্রায় নিয়মিত খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পাওয়া মাহিদুর রহমানও বলেন, “চেয়ারপারসন চিকিৎসার জন্য এসেছেন; চিকিৎসা চলছে। তাছাড়া সন্তানকে কাছে পেয়ে তিনি উৎফুল্ল। ঈদের পর দেশে ফিরে দলের নেতাকর্মীদের দিক-নির্দেশনা দেবেন।” এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের নিয়ে বসেছিলেন খালেদা জিয়া। তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এখনও সে সুযোগ পাননি। এ বিষয়ে মাহিদুর রহমান জানান, শিগগিরই তাদেরকে নিয়েও বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাস বিএনপিকে সামলাচ্ছেন কেন্দ্রীয় এই আন্তর্জাতিক সম্পাদক। ইউরোপের নানা কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে খালেদা জিয়া বদ্ধপরিকর মন্তব্য করে মাহিদুর বলেন, “আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলন চলবে। বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তবে আমাদের পথ অহিংস, আমরা শান্তির পথে। “আমাদের নেত্রী সব সময় আপোষহীন ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে আসছেন।” কবে নাগাদ খালেদা জিয়া দেশে ফিরতে পারেন প্রশ্ন করা হলে মহিদুর রহমান বলেন, “এটি নির্ভর করছে তার চিকিৎসার উপর। আমরা আশা করছি ঈদ-ঊল-আযহা  (কোরবানি) ঈদ তিনি লন্ডনেই করবেন।” সর্বশেষ ২০১৫ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া লন্ডন গিয়েছিলেন৷ সেবারও তারেকসহ পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করেই দেড় মাস পর দেশে ফিরেছিলেন তিনি৷