রাজনীতিকদের ব্যবসা করার পক্ষে হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘শুধু অনুদান দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। রাজনীতি এখন ব্যয়বহুল। তাই রাজনীতিকদের এখন রাজনীতির সঙ্গে ব্যবসাও করতে হবে। বৈধভাবে আয় করতে হবে। এরপর জনগণকে সাহায্যও করতে হবে।’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

হানিফ বলেন, ‘রাজনীতি হচ্ছে রাজারনীতি। কংগ্রেস মুসলিম লীগের সময় বিত্তবানেরা রাজনীতি করতেন। তাই রাজনীতিকদের শুধু রাজনীতি করে ঘুরে বেড়ালেই চলবে না।’

এসময় তিনি তার এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এক ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর রাজনীতিতে আসতে চাইলেন। এরপরই মানুষজন সাহায্য-সহযোগিতা চাওয়া শুরু করলো। তিনি প্রথমে কয়েকদিন দেয়ার পর আর দিতে পারলেন না। পেনশনের টাকা দিয়ে আর কতো সাহায্য করা যায়? সেই মানুষটি যখন সাহায্য দিতে পারলেন না তখন মানুষ বলা শুরু করলো ‘ব্যাটা কঞ্জুস’ সাহায্য করতে পারে না তো রাজনীতিতে আসলো কেন? এই হচ্ছে আমাদের বাস্তবতা।’

দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়নে জাতীয় ঐক্যমতের ওপর গুরুত্বারোপ করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যমত ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অনেক উন্নয়নমূলক কাজও জাতীয় ঐক্যমতের অভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। বিগত সময় নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় ঐক্যমতের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আর সে কারণেই প্রথমবারের মতো সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন গঠন করার পরও অনেকে এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছে।’

এসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থায়ন দিয়ে বিতর্কের কথা স্বীকার করলেও এই সংসদ সদস্য দাবি করেন তার দল আওয়ামী লীগে কোনো ধরনের মনোনয়ন বাণিজ্য হয় না।

হানিফ বলেন, ‘দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে দলে গণতন্ত্র থাকতে হবে। দলে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অন্য যে কোনো দলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। আমাদের দলের যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়।’ এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশের পক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করা উচিৎ। যদিও আমার হলফনামা নিয়ে বিভ্রান্তি হয়েছিল। তবুও আমরা বলেছিলাম প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করতে। কিন্তু তারপরও কেন নির্বাচন কমিশন হলফনামা প্রকাশ করে না সেটা কমিশনকে জিজ্ঞেস করুন।’

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদের পরিচালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মুহম্মদ কাদের, টিআইবির নির্বাহী পরিচাক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ডেমোক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক আব্দুল আলীম প্রমুখ।

You Might Also Like