রাক্ষুসে চিংড়ি !

‘পিঙ্ক পেরিল’- নাম শুনলেই মনে হয় আদুরে কোনো প্রাণী বুঝি। কিন্তু তুরস্ক ও ইউক্রেনের এ প্রজাতির চিংড়ি আদুরে তো নয়ই, রাক্ষুসে। এবার এদের দেখা মিলছে ব্রিটেনের নদীগুলোতেও। রক্তলাল এ খুনে চিংড়ি স্থানীয় প্রজাতির চিংড়িগুলোকে মেরে ফেলার পর তা খেয়েই বাঁচে। তাই তো সামরিক হামলার চেয়ে মোটেও কম ভয়াবহ নয় এদের বিস্তার।

এদেরই আরেক সঙ্গী কুয়াগ্গা মোলাস্কস মাত্র সপ্তাহখানেক আগে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছের ওয়ার্সবারি নদীতে দেখা মিলেছে। ব্রিটিশদের কলিজা হিম করতে না পারলেও তাদের জীববিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে এরা।এসেই কেবল চুপচাপ থাকছে না এরা। জলজ পরিবেশে নিজেদের পছন্দমতো বাস্তুসংস্থানও গড়ে তুলছে। প্রাণিবিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এতে করে বিদেশি অন্য প্রজাতির প্রাণীরাও সহজে বংশবিস্তারের সুযোগ পাবে ব্রিটেনে।

এমনকি স্থানীয় প্রজাতির প্রাণীর চেয়েও দ্রুত বাড়ছে তাদের সংখ্যা। ইউকে এনভায়রনমেন্টাল এজেন্সির হিসাবে, কুয়াগ্গা মোলাস্কসই বছরে ১৩ হাজার ৮০৬ কোটি টাকার ক্ষতি করে। পানির গুণগত মান তো এরা কমায়ই, সঙ্গে পাইপে ঢুকে সরবরাহ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

শুধু ব্রিটেনেই নয়, এদেরই মতো গোটা দশেকের দেখা মিলেছে নেদারল্যান্ডসেও। যে কারণে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে পারছে না কর্তৃপক্ষ। সাধারণত দেশ দুটি থেকে ফিরে আসা জাহাজে করে আনা বিভিন্ন শৌখিন গাছপালার সঙ্গেই আসছে এসব প্রাণী। কৃষ্ণসাগর, কাস্পিয়ান সাগর ও আজোভ সাগরে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এমন পাঁচ ধরনের স্বাদুপানির প্রাণী এখন ব্রিটেনেই পাবেন। ব্যাপক হারে এদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নদীগুলোকে মনে হচ্ছে কাস্পিয়ান সাগরের নতুন সংস্করণ!

গবেষকদের মতে, আরও অন্তত ১০টি প্রজাতি ইংলিশ চ্যানেলের ওপারের ডাচ জলসীমায় আস্তানা গেড়েছে। এদের কবল থেকে বাঁচতে টেমস, সেবোর্ন, গ্রেট অস ও নরফোক ব্রডস নদীতে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। এদের হামলার ভয়ে নিজেদের জলসীমায় নজরদারি বাড়িয়েছে ব্রিটেন। এ পথে কোনো প্রাণীকেই ঢোকার সামান্যতম সুযোগ দিতে রাজি নয় তারা। খবর :বিবিসি নিউজ ও মেইল অনলাইন অবলম্বনে।

You Might Also Like