রমজান আসার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি

রমজান আসার আগেই দাম বেড়েছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। অথচ কয়েকদিন আগেই জাতীয় বাজেটে এসব পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা ধরনের ঘোষণাও দিচ্ছে।

এর মধ্যেই পণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। ফলে রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করলেও দাম স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে না।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান মাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। মসলা, ছোলা ও সয়াবিন তেলের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। তবে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। চাল ও ডালের দামের তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, রসুন ৭০-৮০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১১০-১২০, ছোলা ৫৫-৫৮ টাকা, চিনি ৪৭-৪৮ টাকা, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০৫-১১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কয়েকদিন আগেও এসব পণ্যের দাম কেজিতে ২/৩ টাকা করে কম ছিল।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নেয়ার টার্গেট করে ফেলেছে। রমজান শুরুর প্রায় দেড় মাস বাকি থাকতেই কিছু পণ্য এখনই মজুদ শুরু করে দিয়েছে একটি সিন্ডিকেট। একটি বহুল প্রচলিত ভোজ্যতেল কোম্পানি তাদের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। আদার দাম এরই মধ্যে সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। ডালের বাজারও গরম। মসলার দাম তেতে উঠছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার কোনোভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। প্রতিবছর রমজান মাস এলেই কিছু উদ্যোগ নেয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে। এরপর বছরের ১১ মাস আর কোনো উদ্যোগ থাকে না। বাজারে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। অভিভাবকহীন এ বাজার ব্যবস্থায় সরকারের কোনো ভূমিকাই থাকছে না। সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রেতারা।

তারা জানিয়েছেন, একমাত্র খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খোলাবাজারে চাল বিক্রি ছাড়া আর কোনো উদ্যোগ নেই। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এসব সিন্ডিকেটের তালিকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে না। আগে শুধুু আমদানির মাধ্যমে আসা পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে এসব সিন্ডিকেট। এখন দেশে উত্পাদিত বিভিন্ন পণ্যও চলে গেছে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে মাঠপর্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি রাজধানীতে এসে বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার গুণ মূল্যে।

এদিকে ১০ জুন থেকে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। প্রতিবারের মতো এবারও নিত্যপণ্যের দাম জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সংস্থাটি এ কার্যক্রম শুরু করেছে। রমজান মাসে পণ্যের সরবরাহ ও নিত্যপণ্যের দর সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে এবার একটু আগে ভাগেই কাজ শুরু করার কথা বলছে টিসিবি। এছাড়া রমজানের এক সপ্তাহ আগে খেজুর বিক্রি শুরু হবে। টিসিবির নিজস্ব ৪টি বিক্রয় কেন্দ্রসহ রাজধানীর প্রায় ৩৫টি স্থানে ট্রাকে করে এই বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও টিসিবির খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হবে; কিন্তু টিসিবির কার্যক্রম খুবই সীমিত বলে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন। ফলে ক্রেতারা আশঙ্কা করছেন এবারও বেশি দামে বাজার থেকেই পণ্য কিনতে হবে।

টিসিবি জানায়, এ বছর ৩ হাজার টন তেল, দেড় হাজার টন ছোলা, ১৫০ টন খেজুর ও ২ থেকে ৩ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চিনি, ডাল ও তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও খেজুর ও ছোলা এখনও সংস্থাটির গুদামে এসে পৌঁছেনি। তবে সংস্থাটি আশা করছে ২০ জুনের মধ্যে পণ্য দুটি তাদের কাছে পৌঁছবে। আর এটি এলে রমজানের জন্য সব পণ্যের মজুদ থাকবে টিসিবির কাছে।

তানজানিয়া থেকে দেড় হাজার টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। আর আরব আমিরাত থেকে ১৫০ টন খেজুর আমদানি করা হচ্ছে, যা দুই-একদিনের মধ্যে এসে পৌঁছবে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির জানান, পণ্য বিক্রির কয়েক দিন আগে বাজারে বিক্রির দর নির্ধারণ করা হবে। তবে বাজার দরের চেয়ে টিসিবির পণ্যের দাম বেশ কম হবে বলে জানান তিনি।

You Might Also Like