রংপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, যানবাহন ভাঙচুর

রংপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আতংকে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেনে। পরে বাড়তি পুলিশ গিয়ে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়। এরপর জিএল রায় রোড় এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে জাহাজ কোম্পানি মোড়ের দিকে আসছিল। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি মাইক্রেবাস, দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পুলিশ ১০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সংঘর্ষে আলী মিয়া, কাওছার, বাবুল, রোস্তমসহ ১০ জন আহত হয়। পুলিশ সেখান থেকে দুটি তাজা ককটেল উদ্ধার করে। এ সময় রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির এমদাদুল হক ভরসার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়। এছাড়া নগরীর কাচারিবাজার, সিটি বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

এদিকে, সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। পুলিশও কার্যালয়টি ঘিরে রাখে।

অপরদিকে ভোর থেকে রংপুর নগরীতে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নগরীর পরিস্থিতি ছিল থমথমে। শহরে দোকানপাট খোলা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, নগরীর জাহাজ কোম্পানি এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

You Might Also Like