যৌনতার বিনিময়ে সরকারি চাকরির খবর ফাঁস

চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন। আর সেই ফাঁদে পা দিলেন ওই তরুণী। রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে আসতে শুরু করল কুপ্রস্তাব। বদলে নিশ্চিত চাকরীর প্রতিশ্রুতি। দিনে রাতে আসতে লাগলো এসএমএস।
এসএমএসেই থেমে থাকলো না রেজিস্ট্রারের বাসনা। নিয়মিত ওই চাকরিপ্রার্থী তরুণীর ডাক পড়তে লাগলো কলকাতার বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয়।
এমনটি ঘটেছে কলকাতার বোস ইন্সটিটিউট-এ। সেদেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানেই চাকরির দেওয়ার নামে প্রতারণা। অভিযুক্ত ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার সুরজিত পানিগ্রাহী।
অভাবের সংসারে নিশ্চিত কেন্দ্রিয় সরকারি চাকরির আশায়, নিরুপায় তরুণী সাড়া দিতে থাকলেন রেজিস্ট্রারের ডাকে। যেতে থাকলেন সুরজিত পানিগ্রাহীর নির্দিষ্ট করা জায়গায়।
পরিচয়টা হয়েছিল ইন্টারভিউ বোর্ডে। সল্টলেকের বাসিন্দা এই তরুণীকে দেখেই আকৃষ্ট হয়েছিলেন সুরজিত পানিগ্রাহী। অন্তত, এমনটাই বলছেন ওই তরুণী। দু-টি মাত্র পদ। আবেদনকারীর সংখ্যা ষোলো গুণ বেশি। তাঁকে সঙ্গ দিলে নিশ্চিতভাবে মিলবে চাকরি। অভিযোগ,এমনটাই নাকি আশ্বাস দিয়েছিলেন সুরজিত পানিগ্রাহী। অফিসের বাইরে নিয়মিত ওই তরুণীর সঙ্গে ওঠা-বসা শুরু করলেন রেজিস্ট্রার। প্রথম প্রথম সপ্তাহে এক-দুবার। ধাপে ধাপে বাড়তে লাগলো ঘনিষ্ঠতা।
হোটেলের বিল মেটাতেন রেজিস্ট্রার নিজেই। চাকরিপ্রার্থী তরুণীকে শুধু সঙ্গ দিত হত। তাদের এই ঘনিষ্ঠতা যাতে কোনও দিন প্রকাশ্যে না আসে, সেবিষয়ে তরুণীকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন রেজিস্ট্রার। আর এই সখ্যের বদলে তরুণী পেলেন ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বহু গোপন তথ্য। আর সেকারণেই বোধহয়, লিখিত পরীক্ষার সাতদিন আগেই তরুণীর হাতে চলে এসেছিল পরীক্ষার দু-সেট প্রশ্নপত্র। এখানেই শেষ নয়, পরীক্ষা ভাল না হওয়ায় বাড়িতে বসে নতুন উত্তরপত্র তৈরি করেন এই তরুণী। ঘরে বসে লেখা সেই উত্তরপত্র মূল খাতার মধ্যে গোপনে ঢুকিয়ে দেন রেজিস্ট্রার সুরজিত পানিগ্রাহী। অসত্ উপায়ে অন্যকে টপকে পরীক্ষায় পাশও করে যান তিনি। শুধু সঙ্গ দেওযার জন্য!
হঠাতই ছন্দপতন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে একটি বেনামী ই-মেল আসে বোস ইন্সটিটিউটের অধিকর্তার কাছে। যাতে উল্লেখ ছিল রেজিস্ট্রারের কুকীর্তির কথা। তরুণীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পিছিয়ে যায় ইন্টারভিউ।
এই তরুণী সহ দ্বিতীয় দফার ইন্টারভিউয়ে ডাক পেয়েছিলেন মোট ১৪ জন আবেদনকারী। পঁচিশে ফেব্রুয়ারি ছিল ইন্টারভিউ। কিন্তু সব অঙ্ক এলোমেলো করে দেয় একটি নাম গোত্রহীন ই-মেল। সর্ষের মধ্যেই রয়েছে ভূত। বিষয়টি আঁচ করেছিলেন ইন্টারভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুরাধা লোহিয়া। পিছিয়ে দেওয়া হয় ইন্টারভিউয়ের দিনক্ষণ। হয়তো, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্যই। তিরিশে এপ্রিল ইন্টারভিউয়ের পরবর্তী দিন ঠিক হয়। কিন্তু ততদিনে বোস ইন্সটিটিউটের অনেকের কাছেই ফাঁস হয়ে গেছে রেজিস্ট্রারের কুকীর্তির কথা। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে এতবড় একটা বেনিয়মের পরেও পার পেয়ে যান সুরজিত পানিগ্রাহী। দোসরা এপ্রিল রেজিস্ট্রারের সাক্ষর করা নোটিস ওঠে বোস ইন্সটিটিউটের ওয়েব সাইটে। যাতে লেখা,মেলেনি উপযুক্ত প্রার্থী। তাই বাতিল করা হল গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া। ধামা চাপা পড়ে যায় চতুর রেজিস্ট্রারের কুকীর্তি।
হাতে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ নিয়ে এরপর আমরা যাই বোস ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রারের কাছে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুনে তো রেজিস্ট্রার অবাক। সব অভিযোগই নাকি ভুয়ো। বলে দিলেন, যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে। এমনকি আরটিআই করার পরামর্শও দিলেন।
সুরজিত পানিগ্রাহীর দাবি কিন্তু টিকল না তরুণীর কথায়। তিনি আমাদের কাছে স্বীকার করে নিলেন সব ঘটনাই সত্যি। অসহায়তার সুযোগ নিয়ে রেজিস্ট্রার তাঁকে ব্যবহার করেছেন। এবিষয়ে কারও কাছে মুখ খুললে ফল ভাল হবেনা। এমন হুঁশিয়ারিও নাকি দিয়েছিলেন বোস ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার। অভিযোগ ওই চাকরিপ্রার্থী তরুণীর।
বিতর্কের জেরে বাতিল হয়ে যায় নিয়োগের প্যানেল।

You Might Also Like