যে রেকর্ড শুধু আফ্রিদির

১৯৯৬ সালের অক্টোবরে তাঁর অভিষেক। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১৮টি বছর। জীবনের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে। এর পর থেকেই শহীদ আফ্রিদির নামের সঙ্গে ‘মারদাঙ্গা ব্যাটিং’ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে।

১৮ বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৩৮৪টি ওয়ানডে। এর মধ্যে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন ৩৫৬টি ম্যাচে। ছয়টি সেঞ্চুরি আর ৩৬টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক এই আফ্রিদি এমন একটা রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন, যা কেবল তাঁকেই মানায়। শুনলে অবাক হতে হয়, আফ্রিদি এই ৩৫৬টি ইনিংসে এখন পর্যন্ত বল মোকাবিলায় ‘সেঞ্চুরি’ করতে পারেননি। মানে, এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারে কোনো ম্যাচেই তাঁর খেলা হয়নি ১০০টি বল। ১৯৯৮ সালে কানাডার টরন্টোয় ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৪ বল মোকাবিলা করে ১০৯ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তাঁর ছয়টি সেঞ্চুরির প্রতিটিতেই রানসংখ্যার চেয়ে মোকাবিলা করা বলের সংখ্যা অনেক কম। ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর ক্যারিয়ার-সেরা ১২৪ রানের ইনিংসটি এসেছিল মাত্র ৭৫ বল মোকাবিলায়!

ছিয়ানব্বইয়ে ওয়ানডে অভিষেক হলেও আফ্রিদি প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন ১৯৯৮ সালে। ২০১০ সালে স্বপ্রণোদিত হয়েই বিদায় জানিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটকে। এই পুরোটা সময়ই তাঁকে ‘টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী নয়’—এমন অভিধা কানে নিতে হয়েছে। ২৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৮ ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং-গড় একেবারেই মন্দ নয়। ৩৬.৫১ গড়কে যেকোনো বিচারেই অভিহিত করা যেতে পারে উন্নত-গড় হিসেবে। পাঁচটি টেস্ট সেঞ্চুরিও নেই নেই করে পাওয়া হয়ে গেছে তাঁর। হাফ সেঞ্চুরি আটটি। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি এক ইনিংসে সর্বোচ্চ বলের মুখোমুখি হয়েছেন ১৯১টি। ১৯৯৯ সালে চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংসটি তিনি সম্পন্ন করেছিলেন ১৯১ বল মোকাবিলা করে। টেস্টে তাঁর দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ২০০৬ সালে লাহোরে ওই ভারতের বিপক্ষেই। মাত্র ৮০ বল মোকাবিলা করে সেদিন আফ্রিদি খেলেছিলেন ১০৩ রানের ইনিংস।

একদিনের ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইকরেট ১১৫.৪০। টেস্টে ৮৬.৯৭। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে তা ১৪৩.৭৪। তবে টেস্ট ও ওয়ানডের তুলনায় তাঁর টি-টোয়েন্টি রেকর্ড একটু পিছিয়েই থাকবে। ৭৫টি ম্যাচ খেলে তাঁর গড় ১৮.৮৮। সেঞ্চুরি এখনো পাননি, ফিফটি মাত্র চারটি। তবে এই ফরম্যাটে আফ্রিদি কোনো ম্যাচেই ৪০ বলের বেশি খরচ করেননি।

You Might Also Like