যে কারণে রক্তে রঞ্জিত শাবি ক্যাম্পাস

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সবুজ ক্যাম্পাস। শাবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ঘোষণার দিন থেকেই ক্যাম্পাসে সিরিজ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান পঙ্গত্ববরণও করেছেন।

সর্বশেষ গতকাল প্রাণ হারিয়েছেন বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মী সুমন চন্দ্র দাস। শাবিতে এভাবে একের পর এক সহিংস ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যেও ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর শাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সম্মেলন হলেও তাৎক্ষণিক কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। সম্মেলনের ৬ মাস পর ২০১৩ সালের ৮ মে সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থকে সভাপতি ও ইমরান খানকে সাধারণ সম্পাদক করে শাবি ছাত্রলীগের ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ।
Sylhet-Pic3
জানা গেছে, কমিটি ঘোষণার দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শাবি ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের নেতা উত্তম কুমার দাসকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন।

পর দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে শাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রঞ্জিত দেবকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানকে আহত করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেট থেকে রাজধানী ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এমনকি ভারতে চিকিৎসা দেয়ার পরও মেধাবী ছাত্রনেতা ইমরান পঙ্গত্ববরণ করেন। তার বাম হাত কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এ ঘটনার জন্যেও উত্তম গ্রুপকে দায়ী করা হয়েছিল। এরপর উত্তমকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

গত ৮ আগস্ট ক্যাম্পাসে দলের কর্মী রুহুল আমিন ও ১০ অক্টোবর সুবিদবাজারে অঞ্জন রায়কে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনা দু’টির জন্যে ছাত্রশিবিরকে দায়ী করা হয়।

গত ২৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কুপিয়ে আহত করা হয় ছাত্রলীগ নেতা উত্তম কুমার দাসকে। সর্বশেষ গতকাল নিজ দলের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত হন সুমন চন্দ্র দাস। প্রায় দেড় বছর আগে বর্তমান কমিটি ঘোষণার দিন এক সুমন আহত হন দেড় বছর পর সহকর্মীদের হাতেই খুন হলেন আরেক সুমন।
Sylhet-Pic-3
জানা গেছে, ৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণার দেড় বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা এখনো সম্ভব হয়নি। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে সবুজ ক্যাম্পাস বার বার রক্তে লাল হলেও এর প্রতিরোধে তেমন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর হলে কয়েকজন ছাত্রনেতাকে বর্তমানে পঙ্গত্ববরণ করতে হতো না বলেও একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজির ঘটনা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুটি কয়েক অস্ত্রবাজের কারণে পুরো সংগঠনকে এর মাশুল দিতে হয়েছে বলে ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে গতকালের ঘটনায় নিহত সুমন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্র। প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্র দলবল নিয়ে কীভাবে শাবিতে প্রবেশ করেছে শাবি কর্তৃপক্ষের কাছে এর প্রশ্ন রেখেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এএইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ।

তিনি বলেন, ‘উত্তম ছাত্রলীগের নামে অপরাধ করছে। ছাত্রলীগ নেতা ইমরানকে আহত করেছে। ইমরান এখন পঙ্গু। ইমরানের ঘটনায় মামলা হলো। আমরাও বলেছিলাম তারপরও উত্তমকে পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করলো না? উত্তমকে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন তা আমাদের জানতে হবে।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রহমত উল্লাহ বাংলামেইলকে বলেন, ‘ভার্সিটিতে আমরা ইচ্ছে করলেই অ্যাকশন নিতে পারি না। কারণ পুলিশ যেতে হলে কর্তৃপক্ষকে আমাদের বলতে হবে। আমরা ভার্সিটির হলগুলোতে তল্লাশী করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের এখনো এ বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি।’
সূত্র:বাংলামেইল২৪ডটকম

You Might Also Like