যেসব কারণে কেউ জঙ্গি হয়

আলী রীয়াজ : কোনো ব্যক্তির জঙ্গি হয়ে ওঠার ঘটনা যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে র‍্যাডিক্যালাইজেশন বলে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার কারণ কী, সে বিষয়ে গত কয়েক দশকে পরিচালিত গবেষণার আলোকে যে তত্ত্বগুলো গড়ে উঠেছে, তাকে আমরা মোটা দাগে দুই ভাগ করতে পারি। প্রথমত, যেগুলো সমাজে বিরাজমান কতিপয় অবস্থা ও প্রবণতাকে প্রধান বলে মনে করে; দ্বিতীয়ত, যেগুলো রাজনীতিকেই প্রধান উপাদান বলে মনে করে।
যাঁরা মনে করেন যে সামাজিক দিকটি প্রধান, তাঁদের মতে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগতভাবে বা গোষ্ঠীগতভাবে রিলেটিভ ডিপ্রাইভেশন বা আপেক্ষিক বঞ্চনার অভিজ্ঞতা বা বোধ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ বা উপাদান। আপেক্ষিক বঞ্চনা হচ্ছে যখন একজন ব্যক্তি নিজের জীবনে বা তাঁর চারপাশের সমাজে এমনকি বৈশ্বিকভাবে যে সমাজের অংশ বলে নিজেকে মনে করেন, তার প্রতি অসম আচরণ দেখতে পান। তিনি যখন অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করেন এবং দেখতে পান যে অন্যরা তুলনামূলকভাবে ভালো আছেন, তখন তাঁর ভেতরে একধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ভালো থাকাটা হতে পারে বৈষয়িক, হতে পারে সাংস্কৃতিক, হতে পারে সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে। সমাজে এসব বিষয়ে পার্থক্য থাকাটাই যথেষ্ট নয়। কেননা, যেকোনো যুক্তিসম্পন্ন মানুষই জানেন যে পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই পার্থক্যকে যখন অন্যায় ও অন্যায্য বলে মনে হয়, তখনই এই পার্থক্যের বিষয়টি মনোজগতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই আপেক্ষিক বঞ্চনার বোধ তৈরি হয় যখন একজন ব্যক্তি দেখেন যে অতীতে যেসব অধিকার তিনি ভোগ করে এসেছেন তা সীমিত হচ্ছে বা অন্যরা এখন তাঁর চেয়ে বেশি অধিকার ভোগ করছেন। ইউরোপের মুসলিম সমাজের মধ্যে, এমনকি দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের ভেতরেও, এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সমাজে একীভূত হওয়ার বা ইন্টিগ্রেশনের অভাব। তাঁরা মনে করেন যে সমাজকাঠামো ও বিরাজমান ব্যবস্থা তাঁকে ও তাঁর সম্প্রদায়কে আলাদা করে রাখছে এবং বঞ্চিত করছে। বাস্তবে বিরাজমান পরিস্থিতিই তাঁদের এই ধারণার জন্ম দেয়।
অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, ইউরোপের বাইরে এই তত্ত্বের কার্যকারিতা আছে কি না। ইউরোপের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘একীভূত’ করার প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দিলে আমরা তার প্রত্যক্ষ কার্যকারিতা দেখতে পাব না, বিশেষত যেখানে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মধ্যেই র‍্যাডিক্যালাইজেশনের কারণ আমরা বুঝতে চেষ্টা করছি। কিন্তু মনে রাখা দরকার, যেকোনো সমাজে যখন একজন ব্যক্তি, যদি নিজেও এই সুবিধাভোগী হন, কিন্তু উপলব্ধি করতে পারেন যে সমাজের একাংশের ওপরে অন্যায্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর এই সুবিধা বহাল থাকছে, তখন তাঁর মধ্যেও আপেক্ষিক বঞ্চনার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণদের একটা বড় অংশ যে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও জঙ্গি হয়ে উঠেছে, তার একটা কারণ এই আপেক্ষিক বঞ্চনা বলে আমার ধারণা। এ ক্ষেত্রে ‘বঞ্চনা’কে কেবল যাঁরা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, তাঁদের অবস্থান থেকে দেখলে বোঝা যাবে না। কোনো ব্যক্তি তাঁর চারপাশে বিরাজমান ব্যবস্থাকে অন্যায্য মনে করছেন কি না, সেটা বিবেচনায় নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে একটি অন্যতম দিক হচ্ছে তাঁর আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। অর্থাৎ, ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিজেকে কোনো পরিচয়ের অংশীদার ভাবছেন; তিনি এই সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ভাবছেন কি না। বিচ্ছিন্নতাবোধের গভীরতা, বৈষম্যবোধের তীব্রতা এবং সে বিষয়ে ক্ষোভের মাত্রা র‍্যাডিক্যালাইজেশনের সম্ভাবনা তৈরি করে। এখানে সম্ভাবনা কথাটি আমাদের বিশেষভাবে নজরে রাখতে হবে। কেননা, এখনো এটা প্রশ্নাতীতভাবে প্রমাণিত নয় যে এই বোধই র‍্যাডিক্যালাইজেশনের জন্য যথেষ্ট।
ইউরোপে তরুণদের র‍্যাডিক্যালাইজেশনের জন্য রাজনৈতিক কারণের দিকে যাঁরা আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন, তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে অসন্তোষ ও ক্ষোভ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা একে সামাজিক-মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলেও চিহ্নিত করতে পারি; যার অর্থ হচ্ছে, নৈরাশ্য থেকে সৃষ্ট আগ্রাসী মনোভঙ্গি বা অপমানবোধ থেকে প্রতিহিংসাপরায়ণতা হচ্ছে র‍্যাডিক্যালাইজেশনের কারণ। এই বিবেচনায় পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতি একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ধারণা প্রবল যে মধ্যপ্রাচ্যে বা অন্যত্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপরে নির্যাতন আসলে তাঁদের ওপরই নির্যাতনের একটি রূপ। এর সপক্ষে ইউরোপ, বিশেষত ব্রিটেনে পরিচালিত জরিপে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এটাকে কেবল ইউরোপের বিষয় বলে ভাবার সুযোগ নেই। বিভিন্ন দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যেই এ ধারণা প্রবল।
এ কথা অনস্বীকার্য যে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতি, জর্জ বুশ ও টনি ব্লেয়ারের ‘ওয়ার অন টেরর’ এবং গত দেড় দশকের বিভিন্ন যুদ্ধ প্রমাণ করে যে পশ্চিমা দেশগুলো একধরনের দুমুখো নীতি বা ডবল স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োগ করে এসেছে এবং অন্যায়ভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এই ক্ষোভ যে কেবল পশ্চিমা দেশের বিরুদ্ধেই প্রযুক্ত, তা নয়। যখন সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ওই ধরনের নীতির সমর্থক হয় কিংবা ওই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে আসে কিংবা মনে হয় যে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা এ ধরনের শক্তি দ্বারা সমর্থিত কিংবা সমাজে এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিবাদ তৈরি হচ্ছে না, তখন তা–ও সমাজের একাংশের ভেতরে উগ্রপন্থার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। পশ্চিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া বা সেই লক্ষ্যে নিজ অবস্থান থেকেই সেই যুদ্ধে শরিক হওয়াকে তাঁরা সঠিক বিবেচনা করে থাকেন। সমাজে র‍্যাডিক্যালাইজেশনের জন্য এগুলো ইতিবাচক উপাদান বলেই বিবেচনা করা উচিত। এ ধরনের মনোভাব কেবল দূরের ঘটনাপ্রবাহের জন্যই কার্যকর থাকে তা নয়, বরং আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহও কোনো ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে। কাশ্মীরের ঘটনা প্রবাহকে এভাবে বিবেচনা করার দৃষ্টিভঙ্গি মোটেই বিরল নয়। রাজনৈতিক অসন্তোষ ও ক্ষোভ নিজ দেশের ভেতরে বিরাজমান রাজনীতি থেকেও উদ্ভূত হয়। নাগরিকের অধিকার সীমিত হয়ে এলে ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রকাশের পথ হিসেবে উগ্রপন্থা অবলম্বনের উদাহরণ মোটেই নতুন ঘটনা নয়।
অসন্তোষ ও ক্ষোভ থাকলেই তা সহিংস ইসলামপন্থী র‍্যাডিক্যালাইজেশনের পরিণতি লাভ করবে এমন নয়, এ ধরনের মনোভাবের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের রাজনীতিতে (যেমন উগ্র বামপন্থী বা অহিংস ইসলামপন্থী) যোগদানের উদাহরণও রয়েছে। যেখানে মূলধারার রাজনীতির মধ্যেই এই ক্ষোভ প্রকাশের উপায় আছে, সেখানে সেই পথ গ্রহণই স্বাভাবিক। কিন্তু তার অনুপস্থিতি ভিন্ন অবস্থার সুযোগ তৈরি করে।
সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে সহিংসতার পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রথমত, ব্যক্তিজীবনের কোনো সংকট বা ঘটনা যা অনুঘটক (বা ক্যাটালিস্ট) হিসেবে কাজ করে। এই সংকট বা ঘটনা যে ওই ব্যক্তির নিজের জীবনেই ঘটতে হবে তা নয়, তাঁর পরিবারে, অন্যের জীবনে বা সমাজে সংঘটিত কোনো ঘটনাকে প্রত্যক্ষ করাও অনুঘটকের কাজ করতে পারে। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে সামাজিক নেটওয়ার্ক।
মার্ক সেইজম্যানের ২০০৪ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ আন্ডারস্ট্যান্ডিং টেরর নেটওয়ার্কস, ব্রিটেনের আল-মুহাজেরুন বিষয়ে কুইনটন উকটরোউইজের ২০০৫ গবেষণাগ্রন্থ র‍্যাডিক্যাল ইসলাম রাইজিং মুসলিম এক্সট্রিমিজম ইন দ্য ওয়েস্ট এবং পল গিলের ২০০৮ সালে প্রকাশিত গবেষণা ‘সুইসাইড বোম্বার প্যাথওয়েজ অ্যামাং ইসলামিক মিলিট্যান্টস’সহ অনেক গবেষণায়ই দেখা যাচ্ছে যে সহিংস র‍্যাডিক্যালাইজেশনের ক্ষেত্রে, বিশেষত একজন ব্যক্তির সহিংসতায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে গ্রুপ বা গোষ্ঠী, সামাজিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব গবেষণায় স্পষ্ট যে র‍্যাডিক্যালাইজেশন যেমন ঘটে সুসংগঠিত সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে সদস্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে, তেমনি ঘটে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের স্বপ্রণোদিত গোষ্ঠী তৈরির মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহে নিহত ও নিখোঁজ জঙ্গিদের মধ্যে সম্পর্কের যেসব তথ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি, তার মধ্যেও এই নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁরা নিজেরাই পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত বলে বা পরিচিত হয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সংগঠিত হয়েছিলেন, নাকি আইসিসের মতো জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হওয়ার পরে তাঁদের মধ্যে গোষ্ঠীগত সামাজিকীকরণ, গোষ্ঠীগত বন্ধন তৈরি হয়েছিল, সেটা এখন আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা দরকার। পূর্বপরিচিত বন্ধুগোষ্ঠীর মধ্যে এ ধরনের র‍্যাডিক্যালাইজেশনের ঘটনা আমরা অন্যত্রও লক্ষ করেছি।
ব্রিটেনে প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যে ছয়জন তরুণ সিরিয়ায় আইসিসের পক্ষে যোগদান করেন, তাঁরা পোর্টসমাউথ শহরে একত্রেই জীবন যাপন করতেন। সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ‘আল-ব্রিটানি ব্রিগেড বাংলাদেশি ব্যাড বয়েজ’ নামে যাঁরা পরিচিত হয়েছিলেন, তাঁরা ব্রিটেনে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বা ধর্মচর্চার জন্য পরিচিত ছিলেন না। মাসুদ চৌধুরী (৩১), মুহাম্মদ মেহেদি হাসান (১৯), মামুনুর মুহাম্মদ রশিদ (২৪), মুহাম্মদ হামিদুর রহমান (২৫), আসাদুজ্জামান (২৫) ২০১৩ সালের অক্টোবরে একত্রে তাঁদেরই আরেক বন্ধু ইফতেখার জামানের অনুপ্রেরণায় সিরিয়ায় যুদ্ধে শরিক হওয়ার জন্য ব্রিটেন ত্যাগ করেন। এঁদের মধ্যে দুই সন্তানের জনক মাসুদ চৌধুরী দেশে ফিরে এলে আটক হয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চার বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বাকিরা সিরিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। এঁদের মধ্যে ইফতেখার জামান ও আসাদুজ্জামান আত্মীয়, কিন্তু তাঁরা সবাই বন্ধু। কোনো গ্রুপের ক্ষেত্রেই বন্ধু বা সহমর্মীদের চাপ একই ধরনের আচরণে উৎসাহী করে থাকে। কেননা, এর ব্যত্যয় ঘটলে একজন গোষ্ঠীচ্যুত হতে পারেন।
পরিবার থেকেও যে এ ধরনের প্রণোদনা তৈরি হয়, তার উদাহরণও রয়েছে। যেমন ব্রিটেনের লুটন শহরের বাসিন্দা বাংলাদেশি মুহাম্মদ আবদুল মান্নান তাঁর পরিবারের ১১ জন সদস্য নিয়ে ২০১৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে আসেন এবং ফেরার পথে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় আইসিসের কথিত ইসলামিক স্টেটে চলে যান। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে নিখোঁজ রোকনউদ্দিন খন্দকার, নাইমা আখতারসহ তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্য সিরিয়ায় গেছেন বলে যে অনুমান, তা–ও এই একই ধারণা দেয় যে র‍্যাডিক্যালাইজেশন পরিবারের মধ্যেও ঘটে।
যেভাবেই ঘটুক না কেন, র‍্যাডিক্যালাইজেশন একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া; যেকোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটার জন্য দরকার কিছু উপাদান।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক
প্রথম আলো’র সৌজন্যে

You Might Also Like