যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিলেন উ. কোরিয়ার নেতা

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন আজ(শুক্রবার) সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আদেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, সীমান্তে গোলা বিনিময়ের বিরল ঘটনার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে পিয়ংইংয় সীমান্তে লাউড স্পিকার দিয়ে প্রচারণা বন্ধের সময় সীমা গতকাল বেঁধে দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এরই দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পিয়ংইয়ং’এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, শনিবার অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টায় মধ্যে এ প্রচারণা বন্ধ করা না হলে সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে সিউলকে। গতকাল শেষ বেলায় কিম জুনের সভাপতিত্বে উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন বা সিএমসি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে এ সময়সীমার অনুমোদন দেয়া হয়। এ ছাড়া বৈঠকে সমগ্র সীমান্ত জুড়ে পাল্টা ও প্রতিশোধমূলক হামলার অনুমোদনও দেয় সিএমসি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’এর খবরে বলা হয়েছে, সীমান্তে মোতায়েন কোরিয় গণ ফৌজ বা কেপিএকে আজ স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটার মধ্যে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কিম। এ ছাড়া, তাদেরকে অপ্রত্যাশিত হামলা চালানো র প্রস্তুতি নেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়।

অবশ্য পিয়ংইয়ং’এর দেয়া সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, কেপিএকে দেয়া সরাসরি বার্তার মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে জবাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ। বার্তায় কাণ্ডজ্ঞানহীন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়, উস্কানিমূলক আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

এ আগেও সিউলের সঙ্গে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধাবস্থা ঘোষণা করেছে পিয়ংইয়ং। ২০১৩ সালে সর্বশেষ এ জাতীয় ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলেছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা মধ্য দিয়ে এ লড়াই শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি কখনোই হয় নি ফলে অন্তত কাগজে কলমে গত ৬৫ বছর ধরে দেশ দু’টি যুদ্ধে জড়িত রয়েছে।

You Might Also Like