হোম » যুদ্ধাপরাধীদের ডাকা হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে: ওবায়দুল কাদের

যুদ্ধাপরাধীদের ডাকা হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস- Thursday, October 12th, 2017

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “যুদ্ধাপরাধীদের দলের ডাকা হরতাল জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা হরতাল ডেকেছে তারা নিজেরাই ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখছে। কোথাও কোনও পিকেটার নেই। হরতালের চিহ্নমাত্র নেই। বিএনপি-জামায়াতেরা এখন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও হরতাল ডাকে।”

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কক্সবাজারে চার কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সড়ক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, “হরতাল নামের অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক হাতিয়ারকে অপপ্রয়োগ করতে করতে এরা ভোঁতা বানিয়ে দিয়েছে। তাতে জনগণ আর সাড়া দেয় না।”
হরতালে জনজীবন স্বাভাবিক

এদিকে, জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদসহ কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে দলটির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। তবে রাজধানীতে ভোর থেকে তাদের কোন কর্মসূচি চোখে পড়েনি। জনজীবন ছিল অন্যদিনের মতোই।

আজ (বৃহস্পতিবার) ভোর থেকেই হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তবে কোথাও কোনো পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। জনজীবন ছিল স্বাভাবিক। অন্য দিনের মতোই রাজধানীতে যানবাহন চলাচল করছে। ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাসও। বেলা বাড়ার সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায় নিত্যকার যানজট। অফিস আদালত, কল-কারখানা, দোকানপাট খোলা ছিল আগের মতোই।

গত সোমবার রাতে উত্তরায় গোপন বৈঠক থেকে গ্রেফতারের পর জামায়াত আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানসহ আটজনকে মঙ্গলবার বিকেলে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিতে এ কর্মসূচি ডাক দেয় জামায়াত।
হরতাল শুরুর পর বিএনপির সমর্থন

এদিকে, হরতাল শুরুর চার ঘন্টা পর, এতে সমর্থন জানায় ২০ দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপি। সকাল ৬টা থেকে হরতাল শুরু হলেও সাড়ে ১০টার দিকে জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার কথা জানায় দলটি।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী হরতালে সমর্থনের কথা জানান।

বিএনপি নীতিগতভাবে জামায়াতের ডাকা হরতালকে সমর্থন করে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সরকার ভয় ও শঙ্কা ছড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে। এ জন্য জামায়াত ও বিএনপির নেতাদের গ্রেফতার করছে। দেশে এখন কোনও আন্দোলন নেই, নির্বাচন নেই, নেই কোনও কর্মসূচি। তারপরও হঠাৎ আকস্মিকভাবে সরকার তাদের নির্যাতন ও জুলুমের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠায় বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। রিমান্ডের নামে নির্যাতন করছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও সরকারের ইশারায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।