যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের সা: সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বরখাস্ত, ৮ জনকে দর্শাও নোটিশ

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে তার দায়িত্ব থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যহতি (সাসপেন্ড) প্রদান করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাস্ট্র আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান, দুই সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মহিউদ্দিন ও আব্দুল হাসিব মামুন, প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া (হাজী এনাম), মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পদক মুজাহিদুল ইসলাম ও উপ প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনির প্রতি কারণ দর্শাও নোটিশ প্রধান করেছেন। সাতদিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে তাদেরকে সাজ্জাদুর রহমানের ভাগ্য বরণ করে নিতে হবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানকে অব্যহতি দেবার পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী ও অন্যান্যদের সাথে নিয়ে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের পাশাপাশি তার পুত্র লুৎফুর রহমান সুইটের ‘আওয়ামী নবীন লীগ’ নামে একটি সংগঠন তৈরী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম সংগঠনটির উপদেষ্ঠা হিসাবে ব্যবহার করে গত কয়েক বছর ধরে দেশে-বিদেশে চাঁদাবাজি করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। আর সে কারণে একই সাথে এই ভূঁইফোঁড় সংগঠনটির সকল কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেয়া এসব সিদ্ধান্ত ঢাকায় অবস্থানরত: তার উপদেষ্ঠা সজীব ওয়াজেদ জয় ইমেইলের মাধ্যমে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাদের অনেককেই জানিয়েছেন -সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। সঞ্চালনে ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। মঞ্চে উপবিষ্ঠ ছিলেন সভাপতির সাথে সংহতি প্রকাশকারী কার্যকরী কমিটি, উপদেষ্ঠা পরিষদ সদস্য ও বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগটনের নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা থেকে এই কঠোর নির্দেশ আসায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাজ্জাদ-নিজাম গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার ছায়া নেমে আসে।

সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবার সঙ্গে সঙ্গেই তৃতীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাজ আজাদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদকের চলতি দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

উল্লেখ্য সাজ্জাদুর রহমানের আগে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী আব্দুস সালামও একইভাবে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পেয়েছিলেন এবং সেটিও দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই হয়েছিলো। সালামও তখনকার সভাপতি অধ্যাপক খালিদ হাসানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংগঠনকে তার ইচ্ছামত পরিচালনার চেষ্টা চালালে তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। তারস্থলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এবং পরবর্তীতে তিনি নতুন কমিটিতে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সাথে সাধারণ সম্পাদকের পূর্ণ দায়িত্ব পান।

গত ৬ ডিসেম্বর সভাপতির অনুমতি ছাড়া কার্যকরী কমিটির সভা আহ্বান এবং ৮ ডিসেম্বর আরেকটি সভা আয়োজন করে সভাপতি ড. সিদ্কিুর রহমানসহ বেশ কজনকে বহিষ্কার করেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ ও যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী। এর মাঝে ৭ ডিসেম্বর সভাপতি আহুত সাধারণ সভাস্থলে তার সমর্থকদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ হট্টগোল করেন এবং জোরপূর্বক সভাস্থলে প্রবেশের চেষ্ঠা করলে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণ করতে ‘হল কর্তৃপক্ষ’ পুলিশ ডাকতে বাধ্য হয়। সে সমসয়ে সভায় যোগ দিতে গেলে দলের কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খানকে নাজেহাল করেন সাজ্জাদ ও সমর্থকরা। আর সভায় যোগ দিয়েও বেড়িয়ে এসে যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মিডিয়ায় বক্তব্য দেন।

কেন্দ্রের এই নির্দেশ আসার আগ পর্যন্ত দৃশত: শক্তি প্রদর্শনে এগিয়ে থাকা সাজ্জাদ-নিজাম গ্রুপের সমর্থকরা প্রায় নিশ্চিত ছিলেন যে সভাপতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সমন্বয়কারী প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের পূণ আশির্বাদ রয়েছে তাদের নেতা সাজ্জাদ-নিজামের প্রতি। আর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ ও যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী তেমন ধারনাই দিয়ে আসছিলেন তাদের। এখন সেসব মধ্যম সারির নেতা ও নিরীহ কর্মীরা বেকায়দায় পড়েছেন। নেতৃত্বের পরাজিত সাজ্জাদ-নিজামের সাথে থেকে তাদের অনেককে এখন হয় কারণ দশাও নোটিশের আওতায় পরতে হচ্ছে নচেৎ নাকে খত দিয়ে সভাপতির নেতৃত্বে আগামী দিনগুলিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে হবে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে দলকে সুসংহত করতে এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বিভান্ত্র নেতা-কর্মীদের একটি সুযোগ দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের অনেকেই।

You Might Also Like