যথাযোগ্য মর্যাদায় নিউ ইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

যথাযোগ্য মর্যাদায় নিউ ইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ স্মরণ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় শহীদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। অমর একুশের মূল অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। একুশের প্রথম প্রহরে সর্বস্তরের শত শত প্রবাসী বাংলাদেশীসহ ভীনদেশী আর মূলধারার জনপ্রতিনিধিরাও শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা-ভালবাসা জানান। নিউইয়র্ক ছাড়াও বাংলাদেশী অধ্যুষিত উত্তর আমেরিকা তথা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শতাধিক শহীদ মিনার নির্মাণ করে এই শ্রদ্ধা জানানো হয় বলে বিভন্ন সূত্রে জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের আব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক, জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল এলাম এসোসিয়েশনের আয়োজনে সম্মিলিত একুশ উদযাপন পরিষদ, মুক্তাধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালীর চেতনা মঞ্চ প্রভৃতি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে একুশের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো ছাড়াও একুশের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো আলোচনা, শিশু-কিশোর-কিশোরীদের একুশ বিষয়ক প্রতিযোগিতা, একুশ ও দেশাত্ব বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংকলন ও স্মরণিকা প্রকাশ প্রভৃতি। প্রবাসে আয়োজিত একুশের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশ্বের সকল ভাষা বাঁচিয়ে রাখার দাবীর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শিখানোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। খবর ইউএনএ’র।
উল্লেখ্য, অমর একুশে ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালী জনগণের মায়ের ভাষা ‘বাংলা ভাষা’র মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফালগুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে রফিক, সালাম, জব্বার সহ কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। ফলে দিনটি ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। কানাডার ভ্যানকুভার শহরে বসবাসরত দুই বাংলাদেশী রফিকুল ইসলাম (মরহুম) এবং আবদুস সালাম প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার জন্য ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাদের এই আবেদনের পর গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সহ বিভিন্ন মহলের দাবীর প্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারীকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ‘এখন থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ’ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে উত্থাপন করে বাংলাদেশ। একই বছরের মে মাসে ১১৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের তথ্যবিষয়ক কমিটিতে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
জাতিসংঘের সামনে:
মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালীর চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ০১ মিনিটে (নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারী বেলা ১টা ০১মিনিট) ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদের স্মরণ করা হয়। এই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও মূলধারার প্রতিনিধিসহ ভীনদেশীরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রথমে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে পু®পস্তবক অর্পণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। এরপর নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মুক্তাধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালীর চেতনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবকের সময় একুশের গান পরিবেশিত হয়।
অন্ষ্ঠুানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল একুশ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। সাংবাদিক-কলামিস্ট হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ সাংবাদিক-লেখক ফাহিম রেজা নূর।
বাংলাদেশ মিশন:
যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়। মিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে ২০ ফেব্রুয়ারী রাত রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে একুশে ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রহর পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরু হয় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন-এর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এরপর বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অতপর দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। রাত দশটায় শুরু হয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উন্মুক্ত আলোচনা।
অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সংসদ মুহাম্মদ ফারুক খান, মুন্নুজান সুফিয়ান, ইসরাফিল আলম, ফখরুল ইমাম, আনোয়ারুল আবেদীন খান, জেবুন্নেছা আফরোজ ও রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালীর উপস্থিতিতে নিউইয়র্ক সময় একুশে ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে মিশনস্থ অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সাথে সাথে রাত ১২টা ১মিনিটে মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে সংসদ সদস্যগণ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র পেশাজীবি সংগঠন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্র, সিলেট সদর সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং উপস্থিত প্রবাসী বাঙালিগণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ‘জাতির পিতা’র অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালী জাতি উপনীত হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। আমরা পাই লাল-সবুজের পতাকা। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ‘জাতির পিতা’ ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। বিশ্বসভায় উচ্চকিত হয় বাংলা ভাষা’।
‘জাতির পিতা’র পথ ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন মর্মে উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে প্রস্তাবনা রেখেছেন। এটির বাস্তবায়নে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি’।
প্রবাসী বাঙালীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, ‘আসুন, প্রবাসের সকল বাঙালী একুশের চেতনাতলে একতাবদ্ধ হই। বাংলা ভাষার মর্যাদা উর্ধ্বে তুলে ধরি। পরিবার এবং সমাজে বাংলার শুদ্ধ চর্চা অব্যাহত রাখি। দেশ ও জাতির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি’।
সংসদ সদস্যগণ তাঁদের বক্তৃব্যে মহান ভাষা আন্দোলনসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙালী জাতির বীরত্বের কথা পুনরুল্লেখ করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন ‘জাতির পিতা’র অবিসংবাদিত নেতৃত্বের কথা। দীর্ঘ কারাভোগের কথা। নিজের জীবন দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, একটি জাতিসত্তা সৃষ্টি করার কথা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি, সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান, সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, সংসদ সদস্য মুন্নুজান সুফিয়ান ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান। তাঁরা সকলেই ‘জাতির পিতা’র সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রবাসের সকল বাঙালীকে দলমত নির্বিশেষে কাজ করার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্যগণ বলেন, বাংলাদেশের সাথে আপনাদের নাড়ীর টান। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল সঙ্কটে প্রবাসী বাংলাদেশীরা সবসময়ই ভূমিকা রেখেছেন। প্রবাসীদের এই ভূমিকা সবসময় অব্যাহত থাকবে মর্মে সংসদ সদস্যগণ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি প্রবাসীদেরকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন তাঁরা যেন তাঁদের সন্তান-সন্তন্তিদের ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানান। যাতে দেশের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। আগামীতে আমরা বিশ্বের নেতৃত্ব দেবো। আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নিতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরীসহ প্রবাসী বাঙালী নেতৃবৃন্দ। বক্তাগণ মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ও জাতির উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সুধীজনদের বক্তৃতায় নতুন প্রজন্মকে মহান ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আরও ব্যাপকভাবে জানতে এবং এরই আলোকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
বাংলাদেশ সোসাইটি:

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাদার সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক’র উদ্যোগ ও আয়োজনে প্রতিবছরের মতো এবছরও নিউইয়র্কে ‘সম্মিলিতভাবে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সিটির উডসাইডস্থ গুলশান ট্যারেসে একুশের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্থবক অর্পণ, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মরণিকা প্রকাশ প্রভৃতি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলম্যান ডানিয়েল ড্রম ও কস্টা কনস্টেনটাইন্ড প্রমুখ মূলধারার জনপ্রতিনিধিরা।
গুলশান ট্যারেসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ অর্ধ শতাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো বলে সোসাইটির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে।
সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবাসে বাংলার ভাষাসহ বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শিখানো ও বাংলা সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সোসাইটি সহ কমিউনিটির সামাজিক সংগঠনগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে দেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এই পর্ব পরিচালনা করেন সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা মনিকা রায়।
উল্লেখ্য, একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতে প্রথমে সোসাইটির কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং প্রবাসীরা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শুরুতে সারিবদ্ধভাবে পুষ্পস্থবক অপর্ণ কর্মসূচী চলতে থাকলেও একপর্যায়ে বিশংঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ আহত হন বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএসএ ইনক’র উদ্যোগে সিটির উডসাইডস্থ কুইন্স প্যালেসে ২০ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ‘সম্মিলিত মহান একুশ উদযাপন-২০১৮’-এর অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ শতাধিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এর আগে প্রবাসের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সম্মিলিত একুশ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএসএ ইনক’র সভাপতি স্বপন বড়–য়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কনসাল জেনারেল শামীম আহসান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা), সুরছন্দ শিল্পী গোষ্ঠী, সঙ্গীত পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র উদীচী ও বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতন। এ সকল সংগঠনের মনগড়া ও দৃষ্টিনন্দন নৃত্য আর বাংলাদেশর কালজয়ী দেশাত্মবোধন সঙ্গীতের অপূর্ব পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃতি করেন মুমু আনসারী ও মিজানুর রহমান বিপ্লব। অনুষ্ঠানে একুশ স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। পুরষ্কার বিতরণ করেন নাঈমা খান, দেলোয়ার হোসেন ও আহসান হাবিব। উল্লেখ্য গত ১১ ফেব্রুয়ারী রোববার প্রতিযোগিতাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে অস্থায়ী শহীদ মিনারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রথম পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। এরপর একে একে সম্মিলিত একুশ উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশী অমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, সিলেট এমসি গভ: কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন, সুর ছন্দ শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা), উদীচী যুক্তরাষ্ট্র, সঙ্গীত পরিষদ, নিউইয়র্ক সিটি বাংলাদেশী সিভিল সার্ভিস সোসাইটি, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্সস্ট, প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি ইউএসএ ইন্ক, প্রবাসী শরিয়তপুর সিমিতি ইউএসএ ইন্ক, মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর এসোসিয়েশন, নরসিংদী জেলা সমিতি, মাদারীপুর জেলা সমিতি, প্রবাসী শরিয়তপুর সিমিতি, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পূজা সমিতি, বাংলাদেশ বেদান্ত সোসাইটি, বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতন সহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন গোলাম মোস্তফা, সাবিনা শারমিন নিহার, মেহের কবির, রুহুল আমীন সরকার ও প্রমিতা সুমি ।
সার্বিক তত্ত্ববধানে ও সহযোগীতায় ছিলেন স্বপন বড়–য়া, মোহাম্মদ হোসেন খান, মোঃ সামসুদ্দিন গাজী, সাইদা আক্তার লিলি, মোঃ হানিফ মজুমদার, তাজুল ইসলাম, মোঃ গোলাম মোস্তফা, মোল্লা মুনীরুজ্জামান, মোশাররফ খান, মঞ্জুর চৌধুরী প্রমুখ।
ব্রঙ্কসে সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
ব্রঙ্কসে সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। একুশ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এন মজুমদারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন করা হয়। এরপর বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সহকারী এটনী জেনারেল আব্দুর রকীব মন্টু, মেয়র অফিস প্রতিনিধি মরিয়ম, ফ্যামেলি ফার্মেসীর স্বত্তাধিকারী গৌরব, মূলধারার রাজনীতিক নাটারিয়া ফর্নান্দেস, বিএসিসি’র সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক, মামুন টিউটোরিয়াল-এর প্রিন্সিপ্যাল শেখ আল মামুন, কফিল চৌধুরী প্রমুখ। ২০ টি সংগঠন এতে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একুশের প্রথম প্রহরে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ।

You Might Also Like