মৌলভীবাজারে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষ, নারীসহ নিহত ৩

মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল ইউনিটের (সোয়াট) অভিযানে নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছে।

চারদিন ধরে ঘিরে রাখা ওই আস্তানায় পরিচালিত ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষে আজ (শনিবার) দুপুর সোয়া ১২টায়পুলিশের পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম একথা জানান।

তিনি জানান, বড়হাটে নিহতদের মধ্যে একজন নারী। এ ছাড়া নিহত জঙ্গিদের মধ্যে একজন সিলেটের আতিয়া মহলের পাশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মৌলভীবাজারে চলে আসে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মনিরুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জঙ্গি আস্তানায় সোয়াটের অভিযান শেষ হয়। সকাল ১১টায় ড্রোন ক্যামেরা উড়িয়ে আস্তানার ভেতর ও বাইরে পর্যবেক্ষণ করে সোয়াট দল। এরপর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও সোয়াট বাহিনীর সদস্যরা ভবনের ভেতরে এবং ছাদে অবস্থান নেন।

এর আগে আজসকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করেছে সোয়াট। সঙ্গে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।
মৌলভীবাজার পৌরসভার ভেতরে বড়হাট এলাকার আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসার গলিতে দোতলা এই বাড়ি জঙ্গি আস্তানা বলে সন্দেহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গত মঙ্গলবার রাতে সেটি শনাক্ত করে ঘিরে রাখা হয়। গত বুধবার ওই আস্তানা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ৫৩ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর গতকাল সকাল থেকে শুরু হয় সোয়াটের ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’। অভিযানে পুলিশের কনস্টেবল কায়সর আহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গিদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে তিনি আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রচুর বিস্ফোরকসহ বোমা তৈরিতে দক্ষ একজন ওই বাড়িতে আছে। গণমাধ্যমকর্মীরা ওই বাড়ি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করছেন।

ঘটনাস্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’-এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে চার শিশু, দুই নারীসহ সাতজনের ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধারের খবর তথ্য জানায় পুলিশ।

You Might Also Like