মেয়র প্রার্থীকে অপহরণ করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে: বিএনপি

নোয়াখালী জেলার চাটখিলের বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ অন্য একজনকে অপহরণ করে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার সোয়া ১০টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, “চাটখিলে আমাদের দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র মোস্তফা কামালকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে জোর করে সই নেয়া হয়েছে যে, তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ইউএনও’র কাছে সরকারি দলের লোকের ওই প্রত্যাহারের কাগজ নিয়ে গেছেন এবং সেটি গ্রহণ করিয়েছেন। কেবল তাই নয়, আরেক স্বতস্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতাও একইভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমরা অবিলম্বে মোস্তফা কামালের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।”

রিজভী বলেন, “আমরা মনে করি, সরকারের সঙ্গে কারসাজি করে স্থানীয় প্রশাসন নির্লজ্জভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য এই অবৈধ তৎপরতাটি ঘটিয়েছে।”

মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল হাইয়ের ওপর ক্ষমতাসীনরা হামলা চালিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, “আবদুল হাই যখন বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে নিয়ে একটি নির্বাচনী কর্মসূচিতে গেলেন, তখন তার ওপর উপর্যুপরি হামলা করে সরকারি দলের লোকজন। স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার-নিশ্চুপ। তারা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে আজ সারা দেশ অরাজকতার মুখে পড়েছে। গোটা দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত। আজ কারও কোনো নিরাপত্তা নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে চাটখিল-সোনাইমুড়ি আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মচারী বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোস্তফা কামালকে টেলিফোনে হুমকি দিয়েছিলেন যেন সে মনোনয়নপত্র জমা না দেয়। মোস্তফা কামাল আমাকে টেলিফোনে ওই কর্মচারীর হুমকির কথা বলেছিলেন। ওই কর্মচারী বলেছিল, মনোনয়নপত্র জমা দিলে নাকি তাকে ও তার পরিবারকে সারা জীবন কাঁদতে হবে।”

বিষয়টি নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং ওসিকে জানানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু কোনো ব্যবস্থা তারা নেয়নি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৫টা পর্যন্ত মোস্তফা কামাল প্রত্যাহার করেননি। সন্ধ্যা ৬টার পরে ঘোষণা আসল, মোস্তফা কামাল প্রত্যাহার করেছেন। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল, তারটাও প্রত্যাহার হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, “নির্বাচন কমিশন সরকারের সেবাদাস হিসেবে কাজ করছে। এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি। তবে আমার আশা করি নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। এর জন্য যা যা করা দরকার ইসি তাই করবেন।”

জোর করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী’র মনোনয়ন প্রত্যাহার
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আবুল বাশার চোকদারকে দিয়ে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক। তার পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ১০-১২ সদস্যের একটি দল আবুল বাশারকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে ভেদরগঞ্জ পৌর এলাকার গৈড্ডা গ্রামের বাড়ি থেকে ডামুড্ডা নেয়া হয়। সেখান থেকে সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি নাহিম রাজ্জাক তাকে নিয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। বেলা ১২টার দিকে নাহিম রাজ্জাক, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক সুব্রত সাহা কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কক্ষ থেকে বের হন। এ সময় আবুল বাশার চোকদার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। আবুল বাশারের স্ত্রী সুরাইয়া সুলতানা বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডিবি পুলিশ আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁকে কেন কোথায় নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ডামুড্যায় নেয়া হচ্ছে বলে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭ আ’লীগের মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ৭ জন মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। একজন করে মেয়র প্রার্থী থাকায় তারা নির্বাচিত হন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমীন টুলী জানান, কোনো প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের ৭ জন মেয়র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তিনি পৌরসভা ও নির্বাচিত প্রার্থীর নাম জানাননি।

জেসমিন টুলী আরও জানান, বর্তমানে মেয়র পদে ৯২১ জন মেয়র প্রার্থী রয়েছে। তারাই মূলত নির্বাচেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৩৩ জন, বিএনপির ২১৯ জন এবং জাতীয় পার্টির ৭৩ জন। বাকিরা স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬২ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বলেও জানান তিনি।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসীল অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ পাবেন।

You Might Also Like