মুসলিম আমেরিকানরা ঝুঁকছেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির দিকে

আমেরিকান মুসলমানদের খুব স্বাভাবিক ভাবেই দীর্ঘ দিন ধরে রিপাবলিকানদের ভোটদাতা বলে মনে করা হতো কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে এ্‌ই প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন যে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হয়ত বিপুল সংখ্যক আমেরিকান মুসলিম ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থি হিলারি ক্লিন্টনকে ভোট দিতে পারেন।
আনুমানিক পয়ত্রিশ লক্ষ মুসলমান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন, এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ হচ্ছেন আফ্রিকান আমেরিকান তবে অধিকাংশ আমেরিকান মুসলিমই হচ্ছেন এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্য প্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসী। এরা এসছেন অপেক্ষাকৃত রক্ষনশীল পটভূমি থেকে।
যেহেতু এই সব অভিবাসী সেই সব দেশ থেকে এসছেন যেখানে তেমন গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয় না এবং নাগরিক কর্মকান্ডের মান ও তেমন উঁচু নয়, তারা বিপুল সংখ্যায় ভোট দেননি এর আগে, তবে ২০০০ সালের নির্বাচনে এই প্রবণতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তখন বিভিন্ন সংগঠন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মুসলিম আমেরিকানরা, রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থি জর্জ ডব্লিউ বুশকে সমর্থন করেছিলেন।
এ সম্পর্কে বিশিষ্ট মুসলিম আমেরিকান সোহেল খান Foreign Policy পত্রিকাটি লিখেছেন, মুসলিম আমেরিকানরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে মোটের উপর রক্ষনশীল এবং সেই কারণেই তারা স্বভাবতই রিপাবলিকানদের ভোট ব্যাংক। অনেক মুসলিম আমেরিকান, দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, গতানুগতিক নিয়মে বিয়ে এবং গর্ভপাতের বিরোধীতার কারণে রিপাবলিকানদের রক্ষনশীল মূল্যবোধকে সমর্থন করেন। খান আরো বলছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক- চতুর্থাংশ মুসলমান ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই তারা রিপাবলিকানদের কর হ্রাসের নীতিকেও সমর্থন করে থাকেন। তবে এই অবস্থার যে পরিবর্তন আসে সে প্রসঙ্গে স্যাক্রাম্যান্টোতে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবু নাসের কথা বলেন আমাদের সঙ্গে- এ কথা সত্যি যে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টম্বরের পর বুশ মুসলমানদের এই নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র, মিসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয়, রিপাবলিকান দলের নীতিমালা এবং বাগাড়াম্বরতা, কোন কোন মুসলমানের মনে এই ধারণার জন্ম দিয়েছে যে দলটি ইসলামোফোবিয়ার বা ইসলাম-ভীতি রোগের সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে।
ড. আবু নাসেরের বক্তব্যের প্রতিধ্বণি তুলে ওয়াশিংটন ভিত্তিক দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান –ইসলামিক রিলেশান্স এর রবার্ট ম্যাকাউ বলছেন দূর্ভাগ্যবশত, গত ১৫ বছরে রিপাবলিকান দল ইসলামোফোবিয়ার রাজনৈতিক কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।তারা অন্তত দশটি অঙ্গরাজ্যের মুসলিম বিরোধী নীতিমালা কিংবা বিদেশি বিরোধী প্রস্তাব আনছে। এই কারণেই মুসলমানরা রিপাবলিকান পার্টি থেকে সরে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, ৯০ শতাংশের ও বেশি মুসলিম আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক পদপ্রার্থি জন কেরির পক্ষে ভোট দেন এবং ২০০৮ ও ২০১২ সালের নির্বাচনে মুসলমানরা আরও একজন ডেমক্র্যাট প্রার্থি বারাক ওবামাকে অকুন্ঠ সমর্থন দেন। অন্যরা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীরা ঠিক কোন দলের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করবে সে নিয়ে তাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ থাকতে পারে।
জর্জটাউন ইউনিভার্সটির ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক এবং The Future of Islam নামে বইয়ের লেখক জন এস্পোসিটো এই প্রবণতা সম্পর্ক বলছেন ঐতিহাসিক ভাবে দেখা যায় একটা প্রবণতা হচ্ছে, যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জাতি গোষ্ঠিগুলো প্রায়শই ডেমক্র্যাট দলের দিকে ভোট দিতে চায়, ইউনিয়ন ভিত্তিক চিন্তভাবনা তাদের থাকে, যেমন এই ব্যাপারটি ইটালিয়ান আমেরিকানদের মধ্যে ও দেখা যায়।
আমেরিকায় এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের মুসলিমরা বড় হচ্ছে এবং জরিপে দেখা যা্চ্ছে মুসলমানদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে লক্ষনীয় পরিবর্তন এসছে। অনেকেই এখন প্রগতিশীল চিন্তাধারা গ্রহণ করছে যা রিপাবলিকান গোঁড়া মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১১ সালের এক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে মুসলিম আমেরিকানরা ধীরে ধীরে সমকামিতাকেও গ্রহণ করছে এবং ৬৮ শতাংশ মনে করে যে আরও বেশি পরিষেবা প্রদানের জন্য সরকারের আয়তন আরও বড় হতে হবে।
ম্যাকাউ আরও একটি জরিপের কথা উল্লৈখ করে বলছেন যে এখন ৫৫ শতাংশ মুসলিম আমেরিকান মধ্যপন্থি এবং ২৬ শতাংশ উদার পন্থি বলে নিজেদের তুলে ধরছেন। সাধারণত দেখা যায় যে মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা অনেক অভিবাসীই সামাজিক ভাবে রক্ষনশীল এবং রিপাবলিকান দলে তাদের এক সময়ে স্থান ছিল কিন্তু আমেরিকায় যারা বড় হয়েছে, হচ্ছে তারা তাদের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়েছে, তারা হয়ত তাদের বাবা মা যে ভাবে আগে ভোট দিয়েছেন, তার থেকে ভিন্ন ভাবে দিতে চায়।
কেয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংগঠনগুলোর কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরা সম্প্রতি ওয়ান আমেরিকা নামে একটি প্রচার অভিযান শুরু করেছে। তারা আশা করছে দশ লক্ষ নতুন ভোটদাতার নিবন্ধন তারা সম্পন্ন করবে, ২০১২ সালের নির্বাচনের সময়কার চাইতে এটি হবে আরো তিন লক্ষ ভোটার বেশি।
রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু বিষয়ে তাঁর অভিমতে পরিবর্তন আনছেন। আফ্রিকান আমেরিকান এবং মেক্সিকানদের ব্যাপারেও তিনি খানিকটা নমনীয় হয়েছেন। মুসলমানদের ভোট পাবার কৌশল হিসেবে মুসলমানদের প্রতিও তাঁর আগেকার বক্তব্য থেকে সরে আসার সম্ভাবনা আছে বলে ড আবু নাসের মনে করেন তবে তিনি বলেন এর ফলে এবারে মুসলিম ভোটাররা রিপাবলিকান পার্টির দিকে ঝুঁকবেন বলে মনে হয় না।
মুসলিম আমেরিকান ভোট হয়ত তুলনামুলক ভাবে এখন ও কম তবে ফ্লরিডা, ওহাইয়ো, ভার্জিনিয়া, মিশিগান এবং পেনসিলভেনিয়ায় বিরাট মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছেন এবং ভোটে তাদের অংশগ্রহণ যদি বিপুল সংখ্যায় হয়, তা হলে তাদের ভোট, প্রার্থিদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ কথা সত্যি যে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টম্বরের পর বুশ মুসলমানদের এই নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র, মিসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয়, রিপাবলিকান দলের নীতিমালা এবং বাগাড়াম্বরতা, কোন কোন মুসলমানের মনে এই ধারণার জন্ম দিয়েছে যে দলটি ইসলামোফোবিয়ার বা ইসলাম-ভীতি রোগের সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে।
ড. আবু নাসেরের বক্তব্যের প্রতিধ্বণি তুলে ওয়াশিংটন ভিত্তিক দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান –ইসলামিক রিলেশান্স এর রবার্ট ম্যাকাউ বলছেনদূর্ভাগ্যবশত, গত ১৫ বছরে রিপাবলিকান দল ইসলামোফোবিয়ার রাজনৈতিক কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।তারা অন্তত দশটি অঙ্গরাজ্যের মুসলিম বিরোধী নীতিমালা কিংবা বিদেশি বিরোধী প্রস্তাব আনছে । এই কারণেই মুসলমানরা রিপাবলিকান পার্টি থেকে সরে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় , ৯০ শতাংশের ও বেশি মুসলিম আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক পদপ্রার্থি জন কেরির পক্ষে ভোট দেন এবং ২০০৮ ও ২০১২ সালের নির্বাচনে মুসলমানরা আরও একজন ডেমক্র্যাট প্রার্থি বারাক ওবামাকে অকুন্ঠ সমর্থন দেন। অন্যরা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীরা ঠিক কোন দলের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করবে সে নিয়ে তাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ থাকতে পারে।
জর্জটাউন ইউনিভার্সটির ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক এবং The Future of Islam নামে বইয়ের লেখক জন এস্পোসিটো এই প্রবণতা সম্পর্ক বলছেন ঐতিহাসিক ভাবে দেখা যায় একটা প্রবণতা হচ্ছে, যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জাতি গোষ্ঠিগুলো প্রায়শই ডেমক্র্যাট দলের দিকে ভোট দিতে চায়, ইউনিয়ন ভিত্তিক চিন্তভাবনা তাদের থাকে, যেমন এই ব্যাপারটি ইটালিয়ান আমেরিকানদের মধ্যে ও দেখা যায়।
আমেরিকায় এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের মুসলিমরা বড় হচ্ছে এবং জরিপে দেখা যা্চ্ছে মুসলমানদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে লক্ষনীয় পরিবর্তন এসছে। অনেকেই এখন প্রগতিশীল চিন্তাধারা গ্রহণ করছে যা রিপাবলিকান গোঁড়া মনোভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০১১ সালের এক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে মুসলিম আমেরিকানরা ধীরে ধীরে সমকামিতাকেও গ্রহণ করছে এবং ৬৮ শতাংশ মনে করে যে আরও বেশি পরিষেবা প্রদানের জন্য সরকারের আয়তন আরও বড় হতে হবে।
ম্যাকাউ আরও একটি জরিপের কথা উল্লৈখ করে বলছেন যে এখন ৫৫ শতাংশ মুসলিম আমেরিকান মধ্যপন্থি এবং ২৬ শতাংশ উদার পন্থি বলে নিজেদের তুলে ধরছে। তিনি বলেন সাধারণত দেখা যায় যে মধ্যপ্রাচ্য বা দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা অনেক অভিবাসীই সামাজিক ভাবে রক্ষনশীল এবং রিপাবলিকান দলে তাদের এক সময়ে স্থান ছিল কিন্তু আমেরিকায় যারা বড় হয়েছে, হচ্ছে তারা তাদের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়েছে, তারা হয়ত তাদের বাবা মা যে ভাবে আগে ভোট দিয়েছেন, তার থেকে ভিন্ন ভাবে দিতে চায়।
কেয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংগঠনগুলোর কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরা সম্প্রতি ওয়ান আমেরিকা নামে একটি প্রচার অভিযান শুরু করেছে। তারা আশা করছে দশ লক্ষ নতুন ভোটদাতার নিবন্ধন তারা সম্পন্ন করবে, ২০১২ সালের নির্বাচনের সময়কার চাইতে এটি হবে আরো তিন লক্ষ ভোটার বেশি।
রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু বিষয়ে তাঁর অভিমতে পরিবর্তন আনছেন। আফ্রিকান আমেরিকান এবং মেক্সিকানদের ব্যাপারেও তিনি খানিকটা নমনীয় হয়েছেন। মুসলমানদের ভোট পাবার কৌশল হিসেবে মুসলমানদের প্রতিও তাঁর আগেকার বক্তব্য থেকে সরে আসার সম্ভাবনা আছে বলে ড আবু নাসের মন্তব্য করেন।
ড. আবু নাসেরের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ট্রাম্প যদি সত্যি সত্যিই মুসলমানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন, তা হলে কি মুসলিম ভোটারদের মনোভাবেরও পরিবর্তন ঘটবে? জবাবে তিনি বলেন এবারের নির্বাচনে অন্তত এ রকম সম্ভাবনা নেই।
মুসলিম আমেরিকান ভোট হয়ত তুলনামুলক ভাবে এখনও কম তবে ফ্লরিডা, ওহাইয়ো, ভার্জিনিয়া, মিশিগান এবং পেনসিলভেনিয়ায় বিরাট মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছেন এবং ভোটে তাদের অংশগ্রহণ যদি বিপুল সংখ্যায় হয়, তা হলে তাদের ভোট, প্রার্থিদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
-ভয়েস অফ আমেরিকা

You Might Also Like