মুসলিমরা ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার : মেয়র বিল ডি ব্লাসিও

নিউ ইয়র্কের কুইন্সে ইমামসহ দুই বাংলাদেশীকে গুলী করে হত্যার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মুসলিমরা ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার। দুই মুসলিম হত্যার একদিন পর দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই হত্যকাণ্ডের পর স্থানীয় মুসল্লিরা দাবি করেন, এই গুলী করে হত্যার ঘটনা ছিল ইসলামের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত। তবে পুলিশের দাবি, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই তারা নিহত হয়েছেন-এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদগুলোতে হামলার ঘটনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বলেন, আমরা এখনও মাওলানা আকুঞ্জি এবং থারাউদ্দিন-এর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানি না। আমরা এটা জানি যে, আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার। এটা একটা সংকটময় পরিস্থিতি।
এদিকে নিউ ইয়র্কে ইমাম হত্যার পর আতঙ্কে ভুগছেন মার্কিন মুসলিমরা। নিউ ইয়র্কের বেশিরভাগ মুসলিম মূলত তাদের দুইটি আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রথমত এটা আমাদের যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। দ্বিতীয়ত, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েই কথিত ইসলামভীতির প্রপাগাণ্ডা শুরু হয়নি। তবে ট্রাম্পই এর ডালপালা ছড়িয়েছেন। ইমাম হত্যার পর এমনটাই উঠে এসেছে মুসলিমদের ভাষ্যে। ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি যে মসজিদে ইমামতি করতেন সেখানকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম (৩৩)। তিনি বলেন, এটা প্রকৃত আমেরিকার চিত্র নয়। আমরা এ ঘটনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করছি। ট্রাম্প ও তার নাটক ইসলামভীতি সৃষ্টি করেছে।
১৩ আগস্ট ২০১৬ শনিবার নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি ও তার সহকারী থারা উদ্দিনকে গুলী করে হত্যা করা হয়। ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি (৫৫) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। দুই বছরেরও কম সময় আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একজন প্রসিদ্ধ আলেম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওজোন পার্ক এলাকার আল ফুরকান জামে মসজিদ থেকে নামায শেষে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে তারা খুন হন।

You Might Also Like