মুসলমান ও গরুর মাংস ইস্যুতে পিছু হটলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী

`ভারতে থাকতে হলে, মুসলিমদের গরুর মাংস খাওয়া ছাড়তে হবে’- এমন মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে পিছু হটেছেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তার। তিনি বলেন, আমার বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। আমার কোনো শব্দও যদি কারও অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তবে আমি দু:খপ্রকাশ করতে প্রস্তুত। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। ভারতের পত্রিকা দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খাত্তার বলেছিলেন যে, মুসলিমরা ভারতে থাকতে পারবে। কিন্তু ভারতে তাদের গরুর মাংস খাওয়া ছাড়তেই হবে। এখানকার ধর্মবিশ্বাসই হচ্ছে গরু। দাদ্রিতে পঞ্চাশ বছর বয়সী এক মুসলিমকে গরুর মাংস খাওয়ার গুজব রটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা নিয়ে দলের নেতাদের করা মন্তব্য নিয়ে এমনিতেই চাপে রয়েছে শাসকদল বিজেপি। এ সময়েই মনোহর খাত্তার ওই মন্তব্য করেন। প্রতিপক্ষ দলগুলো তার মন্তব্যে প্রকারান্তরে মুসলিমদের পাকিস্তানে চলে যাবার ইঙ্গিত ছিল বলে দাবি করে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এবার বললেন, পাকিস্তানে কারও যাওয়া উচিত বলে আমি মন্তব্য করি নি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম একে অপরের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা বসবাস করে আসছি। এটা আমাদের ঐতিহ্য। একে অপরের অনুভূতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো উচিত। তিনি যোগ করেন, ‘মেওয়াত জেলার মুসলিম ভাইরা স্বেচ্ছায় গরুর মাংস খাওয়া ত্যাগ করেছেন’।

দাদ্রি হত্যাকা- নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ওই হত্যাকা- ছিল ‘ভুল বোঝাবুঝির ফল’। এতে উভয় পক্ষের দোষ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়ে তার ভাষ্য ছিল, ‘ওই উত্তেজিত লোকেরা তেমন আচরণই করেছে, যেমনটি তাদের মা’কে কেউ হত্যা করলে বা বোনের ইজ্জত হরণ করলে তারা করতো’। তবে গতকাল তিনি সে বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেন, অনুভূতি আহত হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারও নেই। এক বছর আগে হরিয়ানায় বিজেপির প্রথম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন খাত্তার (৬১)। তিনি বিজেপি’র আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একজন প্রবীন সদস্য। তার ওই সাক্ষাৎকারে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি যেমনটি বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকার কোনো অধিকার তার নেই। আম আদমি পার্টির আশুতোষ টুইটারে লিখেছিলেন, সে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী। নাম তার এম এল খাত্তার। সংবিধান তো জানেই না, পড়ে শুধু আরএসএস-এর বই। তার জ্ঞানের প্রতি আমার করুণা।

You Might Also Like