‘মুশফিকের একার উপর দোষ দেওয়া ঠিক হবে না’

প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হাসমতউল্লাহ শাহিদীর ক্যাচ মিস করার পর ক্রিকইনফো তাদের কমেন্ট্রিতে লিখেছিল, ‘তবে কি মাহমুদউল্লাহ ম্যাচটাই হাত থেকে ফেলে দিল।’

ভাগ্য পাশে ছিল বলে বাংলাদেশ পরবর্তীতে ম্যাচে ফিরে এসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নেয় মাত্র ৭ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য আফগানদের প্রয়োজন ২০ বলে ১৩ রান। মোসাদ্দেকের বলে ক্রিজ থেকে বেরিয়ে মারতে গিয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজিবুল্লাহ জাদরান। কিন্তু জাদরান বলের ফ্লাইট মিস করেন। বাঁ দিকে এক পা নিয়ে বলটি তালুবন্দি করতে পারেননি মুশফিকুর রহিমও। সেখানেই ম্যাচ শেষ! বাংলাদেশের অঘটনের জন্ম সেখানেই! মাশরাফির ভাষায়, ‘এটা কোনো অঘটন নয়, আমাদের দলের কেউ মনেও করেনি।’

তবে হারের পিছনে মুশফিককে কোনো দোষ দিচ্ছেন না মাশরাফি। মাশরাফি বিন মুর্তজা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘একটা ম্যাচের জন্য যদি মুশফিককে দোষ দেই তাহলে খুব কঠিন হয়ে যাবে। ওই স্ট্যাম্পিংয়ের কথা বলছেন। যদি ওটা হত তাহলে সুযোগ থাকত! এর থেকে ভালো ক্যাচ কঠিন পরিস্থিতিতে মুশফিক নিয়েছে। এক তরফা ওকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। ওকে ব্লেম করে লাভ নেই।’

বরাবরই দলের সবার থেকে বেশি অনুশীলন করেন মুশফিক। নেটে, নেটের বাইরে, ইনডোরে মুশফিকুর রহিম সবার থেকে বেশি অনুশীলন করেন। অনেক সময় দলের আগে মাঠে এসে ব্যাটিং অনুশীলন চালিয়ে যান। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তার কিপিং অনুশীলনও চলতে থাকে। পূর্বেও দেখা গেছে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন মুশফিক। ২০১৪ সালে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদির ক্যাচ হাতছাড়া করেন টাইগার টেস্ট দলপতি। তবে মাশরাফি জানলেন মুশফিকের অনুশীলনের কোনো ঘাটতি নেই।

মাশরাফির ভাষায়, ‘ও সবার আগে এসে ব্যাটিং করে আবার কিপিং করে। সমানভাবে ও অনুশীলন করে। আমি কখনো দেখিনি যে কিপিংয়ে ওর মনযোগের ঘাটতি আছে। দূর্ভাগ্যবশত ও এবং আমরা যেটা আশা করিনি সেটা আজকে হয়েছে।’

কিপিংয়ে মুশফিকের রেকর্ডও ঈর্ষনীয়। বাংলাদেশেল ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল করেছেন মুশফিক। এর মধ্যে ১২৬টি ক্যাচ ও ৩৯টি স্ট্যাম্পিং করেছেন মুশফিক।

You Might Also Like