মুরসির মৃত্যুদণ্ড

মিশরে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও পরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে একটি আদালত। মুরসি ও ব্রাদারহুডের ১০৫ জন সমর্থককে ২০১১ সালে কারাগার ভেঙে গণহারে কয়েদিদের পালানোর একটি ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। ২০১১ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারিতে গণআন্দোলনের পর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন প্রায় তিন দশকের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারক। এরপর প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় মিশরে। তাতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি। তিনি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর হাতে নিতে থাকেন নানা রকম সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্টের হাতে বিপুল ক্ষমতা রেখে ডিক্রি জারি করেন তিনি। এছাড়া তিনি সেনাবাহিনীকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে সেনাবাহিনী ও জনগণের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম নেয়। তার বিরুদ্ধে ক্রমেই গড়ে উঠে জন-আন্দোলন। ২০১৩ সালে আন্দোলন চলা অবস্থাতেই সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ক্ষমতা হারান মুরসি। অভ্যুত্থানের হোতা তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বর্তমানে মিশরের প্রেসিডেন্ট।

মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করে সামরিক জান্তা। দলটির হাজার হাজার সদস্যকে আটক করা হয়। এদের অনেকেই ইতিমধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন। ক্ষমতায় থাকাকালে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনায় মুরসিও ইতিমধ্যেই ২০ বছরের সাজা পেয়েছেন। দলটির শীর্ষ প্রায় সব নেতাকে দেয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। এবার মুরসিও সে তালিকায় যুক্ত হলেন। তবে মুরসি ও ব্রাদারহুডের সমর্থকরা এসব মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে মিশরের আইন অনুযায়ী, মুরসিসহ অন্যদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ তথা গ্র্যান্ড মুফতির মতামত প্রয়োজন হবে। তবে এ নিয়ম মানতে বাধ্য নয় সরকার। আবার গ্রান্ড জুরি অনুমতি দিলেও সেক্ষেত্রে আপিল করতে পারবেন মুরসি।

You Might Also Like