হোম » মুনার ওয়েলকাম রমাদান অনুষ্ঠানে বক্তারা : আল-কুরআনের জন্যই রমাদানের মর্যাদা

মুনার ওয়েলকাম রমাদান অনুষ্ঠানে বক্তারা : আল-কুরআনের জন্যই রমাদানের মর্যাদা

admin- Tuesday, May 23rd, 2017

মানুষের হেদায়তের অন্যতম মাধ্যম কুরআনুল কারীম। আল-কুর’আনের সাথে সঠিক আচরণ করার মাধ্যমেই কেবল রমযানের কল্যাণ সমুহ লাভ করা যেতে পারে। কারণ আল-কুর’আনের কারণেই রমজানের এই বিরাট মর্যাদা। গত ১৭ জুন বুধবার জ্যামাইকার তাজমহল পার্টি হলে মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) আয়োজিত ওয়েলকাম রমাদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। মুনা’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কি নোট স্পীকার ছিলেন মুনার সাবেক ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডা: সাইদুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু আহমেদ নুরুজ্জামান, আবুল ফয়েজুল্লাহ। কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট ও মুনার নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুফতি আব্দুল মালেক, মাওলানা ফায়েক উদ্দিন, মাওলানা যাকারিয়া মাহমুদ, মুফতি ইসমাঈল, ডা: মজিবুর রহমান মজুমদার, শেখ হেলাল, আজিজ ভূইঁয়া, ড: শতকত আলী, আবু খালেকুজ্জামান, রুহুল আমিন সিদ্দিক, মুনার ন্যাশনাল এসিস্টেন এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ওস্তায আবুসামীহাহ সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান আগত অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন মুনার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হারুনুর রশিদ। অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহ আল আরিফ ও আহমেদ আবু ওবায়দা।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, মহান গ্রন্থ আল কুরআন নাজিলের কারণে রমজান মাস মহিমান্বিত হয়েছে। আমাদেরকেও দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান, মর্যাদা, কল্যাণ ও মুক্তিলাভ করতে হলে সেই আল-কুর’আনের দিকে ফিরে যেতে হবে। আল-কুর’আনকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। পবিত্র কুরআন-হাদিসে আলোকে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা আমাদের করণীয় এবং পারিবারিক জীবন গঠণের গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, প্রত্যেক আদম সন্তান মুসলিম স্বভাব নিয়েই জন্ম গ্রহণ করে। সন্তান মানুষ হওয়াই বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিদান। পারিবারিক পরিবেশে শিশুদের ধর্মীয় মূল্যবোধ সর্ম্পকে তাদের হৃদয়ে জাগ্রত হবে। পরিবারের মধ্যে মায়া-মমতা আল্লাহর বিশাল কুদরত। পরিবর্তিত পৃথিবীর আলোকে চলতে পারলেই আল্লাহর রহমত সম্ভব। এ ছাড়াও তারা কমিউনিটির কল্যাণে মুনার বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন এবং পরার্মশ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, মহান রাব্বুল আলামিন একটি বড় উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাদের বসবাসের জন্য এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তৈরি করেছেন। মানুষকে দিয়েছেন ‘আশরাফুল মাখলুকাত’-এর মর্যাদা। কোন নির্দিষ্ট জাতি, গোত্র বা বর্ণের মানুষ এই মর্যাদার একক দাবিদার নয়, বরং সকল মানুষ সমানভাবে এই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তিনি বলেন, একজন মানুষ প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিকার প্রাপ্তির মাধ্যমে নিজের সম্মান ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে পারে। ইসলাম মানুষের কোন সেক্টর বাদ দেয়নি। পরিবারের, সমাজের সদস্য, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সকল মর্যাদা তাকে দেয়া হয়েছে। মানুষ হিসেবে সৃষ্টি জগতে যেমন মহান রাব্বুল আলামিন তাকে পূর্ণ মর্যাদার অঙ্গীকার করেছেন, ঠিক একইভাবে ব্যবহারিক জীবনেও সেই মর্যাদার অধিকারী হবে এই নিশ্চয়তা ইসলাম দিচ্ছে।

তিনি বিশিষ্টজনদের সামনে মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা)’র সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরে বলেন, মুনা ভাল কাজের সহযোগি হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চায়। আমরা চাই পরস্পর ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসা। তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে মধ্যমপন্থী জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন,যেন আমরা মানুষের স্বাক্ষী হিসেবে থাকবে পারি। তিনি বলেন, আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলমানেরা নিজেদের স্বার্থে অন্যদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরী। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে না থাকতে পারি তাহলে আমরা (মুসলমান) নিজেরাই ক্ষতিগ্রন্থ হওয়ার সম্ভবনা বলে আমি মনে করি।

ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট বলেন, যে মানুষ দুনিয়া প্রাপ্তির আশায় কাজ করবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়ায় সমৃদ্ধি দান করবেন। যদিও বা সে অমুসলিম বা অবিশ্বাসী হয়। আর মুসলিম হলে তো পরকালীন মর্যাদা ও প্রতিদান আছেই। ইসলাম মানবজাতিকে যে সীমাহীন মর্যাদা দিয়েছে অন্য আর কোন ধর্ম, জীবনব্যবস্থা, অন্য কোনো মতবাদ সে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। আর এই মর্যাদার সাথে যুক্ত হয়েছে দায়িত্ব। মানুষ নিজে যত সুন্দরভাবে, যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালন করবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও ততটাই সঠিকভাবে তাকে তার মর্যাদায় আসীন করবেন। মহান আল্লাহ  মানবজাতিকে এই মর্যাদা উপলব্ধি করা এবং তাঁর পথে সঠিকভাবে চলার তৌফিক দান করুক এই দোয়াই আমরা করছি।

অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তি কামনা করে দোয়া করেন, যুক্তরাষ্ট্র সফররত ছারছিনা দরবারের মেজু পীর মাওলানা সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা জুনায়েদ। অতিথিদের বক্তব্যের ফাঁকে হামদ ও নাত পেশ করেন ডা: আতাউল ওসমানী, সাফায়েত হোসেন সাফা, সালাহউদ্দিন রাসেল।

অনুষ্ঠানে ইমাম ও কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুল মুকিত, মাওলানা জফির আহমেদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা মঞ্জুরুল হক, মাওলানা মাসুক আহমেদ, মাওলানা আজীরুদ্দিন, মাওলানা আবুল কালাম, হাফেজ ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা ইব্রাহিম, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ড: আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভূইঁয়া, জয়নাল আবেদীন, সাবুল উদ্দিন, ড: জাহাঙ্গীর কবির, আব্দুস সাত্তার, ব্যারিষ্টার গোলাম মোস্তফা, আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান নান্নু, আলহাজ্ব বাবর উদ্দিন, হাজী মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ রব মিয়া, জাহিদ মিন্টু, আব্দুর রহিম হাওলাদার, আবুল খায়ের, আব্দুল হাকিম, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল আজিজ ওসমানী, হেলাল উদ্দিন, এমলাক হোসেন ফয়সল, আবু সুফিয়ান, আব্দুল হান্নান পান্না, আব্দুস সালাম, আহসান উল্লাহ মিন্টুসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন নিউইয়র্ক জোন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তোহা আমিন, মাহবুবুর রহমান, ফখরুল ইসলাম, এ.কে.এম সাইফুল আলম, দেলোয়ার হোসেন মজুমদার সহ নিউইয়র্ক সাউথ ও নর্থ জোনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

খবর বিজ্ঞপ্তির।