মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মুজাহিদের রিভিউ শুনানি শেষ, আগামীকাল রায়

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের রায় আগামীকাল (বুধবার) ঘোষণা করা হবে।

 

আজ (মঙ্গলবার) সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন—বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

 

সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মুজাহিদের পক্ষে রিভিউ শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আদালতে তিনি বলেন, “আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে যে অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তা সঠিক নয়। বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে ৪২টি তদন্ত হয়েছে, তাতে কোথাও তার নাম আসেনি। তাছাড়া তদন্ত কর্মকর্তাও বলেছেন- রাজাকার, আলবদর বা আলশামসের সাথে মুজাহিদ জড়িত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাননি।”

খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, “বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে এক নম্বর স্বাক্ষী জালাল (বিচ্ছু জালাল) ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্য সাক্ষীদের দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।”

 

আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে সম্পূর্ণ নির্দোষ উল্লেখ করে করে তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়ার দাবি জানান তার আইনজীবী।

 

খন্দকার মাহবুবের শুনানির আধা ঘণ্টা পর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
গত ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে রিভিউ শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়। এর আগের দিন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও মুজাহিদের পক্ষে আলাদাভাবে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তাঁদের আইনজীবীরা।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ দুজনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়। সে অনুযায়ী সময় শেষ হয়ে যাওয়ার একদিন আগেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ। এ আবেদন খারিজ হয়ে গেলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

গত ২৯ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ ছাড়া ১৬ জুন একই অপরাধে মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল রাখেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এর আগে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

You Might Also Like