মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স ৬৫ বছর করার প্রস্তাব আপিলে বহাল

মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬০ থেকে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছে তা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

আজ (সোমবার) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ-সংক্রান্ত লিভ টু আপিলের নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আদালতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকটে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও আইনজীবী আজহারুল্লাহ ভূঁইয়া।

এর আগে এক রিটের শুনানি শেষে চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য আদেশ দেন হাইকোর্ট।

২০০৬ সালের ১২ জুলাই এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ওই সময় বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়নি।

এরপর ২০০৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে বিষয়টি প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সচিব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর ও সাধারণ চাকরিজীবীদের বয়সসীমা ৬০ বছরে উন্নীত করার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো ধরনের নির্দেশনা ছাড়াই তা ফেরত আসে। এরপর ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গণকর্মচারী অবসর আইন ১৯৭৪ সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়সসীমা আর বাড়ানো হয়নি। এরপর থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরগ্রহণের বয়সসীমা ৬১ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এই দাবি বাস্তবায়নে তারা মানববন্ধন, আমরণ অনশন, অবস্থান ধর্মঘট পালনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেন। গত ২৭ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশে অনশন শুরু করেন তারা। অনশন চলাকালে মারা যান একজন মুক্তিযোদ্ধা। গত ২৯ মে চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করার আশ্বাস দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনশন ভাঙান তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.)।

এদিকে, ২০১২ সালের মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন শিকদারের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স ৬০ বছর করা হয়। এ ছাড়া ২০০৬ সালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ করতে আরেকটি রিট করেন জামাল উদ্দিন। এ রিটের শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ ৬০ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে সরকার। সরকারের এ আবেদন আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন বলে জানান আইনজীবী আজহারুল্লাহ ভূঁইয়া। এখন রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বয়স করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করতে হবে।

You Might Also Like