মুক্তবাজার নিয়ে ভোকাল, অথচ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছেন না

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে বাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য প্রবেশ করতে দেবেন না- কেন এ দ্বৈত নীতি?’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণকালে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ মুক্তবাজার অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং পদক্ষেপ নিতে হবে আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে।’

তিনি বলেন, এর মধ্যে জনগণের চাহিদা, বিশ্ব বাজারে এবং বিদেশে চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যে উৎপাদনের বিষয়ে বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাশ্রয়ী মূল্যে জনগণের কাছে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ১৯৭২ সালে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বলেন, টিসিবি কার্যকরভাবে পরিচালিত না হলে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। অবশ্য এরপরও অনেক বড় বড় দাতা রয়েছেন- যারা বাস্তবতা না বুঝে প্রায়ই অনেক উপদেশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- নিত্যপণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখতে হলে কিছু পণ্য নিজের এখতিয়ারে রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বাজারে আরো বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে এক্ষেত্রে একটি দেশের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতি সম্পর্কে দেশটি সবসময়ে ভোকাল অথচ তাদের নিজস্ব মার্কেটে কয়েকটি দেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা দিচ্ছে না। কেন এই দ্বৈত নীতি?

প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চা’র পাশাপাশি মৎস্য, মাংস ও শাক-সবজির ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সকল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা গেলে দেশে শুধু বৈদেশিক মুদ্রার আয় হবে না, দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করতে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশী পণ্যের স্থানীয় বাজার গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কেবল রপ্তানি নিয়ে চিন্তা করা যথাযথ হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় বাজার সৃষ্টি এবং জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। এটি হচ্ছে দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হবে না।’

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like