হোম » মিয়ানমার: একদিকে সম্প্রীতির প্রার্থনা, আরেকদিকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন

মিয়ানমার: একদিকে সম্প্রীতির প্রার্থনা, আরেকদিকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন

ঢাকা অফিস- Wednesday, October 11th, 2017

বৌদ্ধ-রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমণে প্রথমবারের মতো সব ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে সমাবেশ করা হয়েছে মিয়ানমারে। মঙ্গলবার দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে কয়েক হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু, হিন্দু, খ্রিস্টান ও মুসলমানদের নিয়ে আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সোমবার সীমান্ত দিয়ে ১১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে তারা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসছে বলে এসব রোহিঙ্গা জানিয়েছে।

সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতন-সহিংসতা থেকে প্রাণে বাঁচতে গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ১৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার সেনা ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের হামলার কথা অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সেনাদের এ দাবি অসত্য এবং তারা রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে এখনো তাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল বাংলাদেশ সীমান্ত অভিমূখে বেড়েই চলছে।

মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনের একটি স্টেডিয়ামে প্রায় ৩০ হাজার লোক ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান জানাতে সমবেত হয়। এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইয়াঙ্গুনের প্রধান বৌদ্ধ ভিক্ষু ইদ্ধিবালা। তিনি বলেছেন, ‘একজন অপরজনকে হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংস বা বিনাশ থেকে বিরত হন।’

বক্তব্য শেষে তিনি মুসলিম ধর্মীয় নেতা হাফিজ মুফতি আলির সঙ্গে করমর্দন করেন। মুফতি আলি বলেছেন, ‘নাগরিকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিৎ এবং দেশের জন্য কাজ করা উচিৎ। দেশের জন্য জীবনের স্বাধীনতা, শিক্ষার স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা একান্ত প্রয়োজন।’
এদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সোমবার সীমান্ত দিয়ে ১১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

ইউএনএইচসিআররের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেছেন, ‘ আমরা পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। ১১ হাজার সংখ্যাটা অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘ছয় সপ্তাহ ধরে দিনের পর দিন আমরা বেশি সংখ্যায় সীমান্ত পাড়ি দেওয়া লোক পাচ্ছি। তাই ওই সর্বোচ্চ সংখ্যার প্রবেশের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। পরিষ্কারভাবেই আরো অধিক সংখ্যকের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

এর রোহিঙ্গাদের অনেকেই আসছেন রাখাইন রাজ্যের মংড়ু এলাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার পূর্বে বুথিডং শহর থেকে। এডওয়ার্ডস বলেন, ‘অনেকে জানিয়েছে তারা অগ্নিসংযোগ ও হত্যা থেকে বাঁচতে পালিয়েছে; এক ছেলের গলার বড় অংশ জুড়ে আমরা গভীর ক্ষত দেখতে পেয়েছি।’

তিনি বলেন, কী কারণে এটি ঘটছে এই মুহূর্তে তা আমরা জানি না। এদের অনেকে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এবং কিছু ক্ষেত্রে দু সপ্তাহ আগে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।’