হোম » মিসরে মসজিদে বোমা ও বন্দুক হামলায় নিহত ২৩৫

মিসরে মসজিদে বোমা ও বন্দুক হামলায় নিহত ২৩৫

এখন সময় ডেস্ক- Saturday, November 25th, 2017

মিশরের উত্তর সিনাই প্রদেশে মসজিদে বোমা ও বন্দুক হামলায় অন্তত ২৩৫ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর এসেছে। হামলায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বীর আল-আবেদ শহরের আল-রাওদা মসজিদে জুমার নামাজের সময় কয়েকজন বন্দুকধারী এ হামলা চালায়। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, চারটি গাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা নামাজিদের ওপর হামলা শুরু করে।

মসজিদের ভেতরে রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকার ছবি খবরে প্রচার করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদটিতে নামাজ পড়ছিল নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে তাদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়।

এরপরই প্রেসিডেন্ট আল-সিসি পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে জরুরী বৈঠক করেছেন। বলা হচ্ছে, মিশরে নিকট অতীতে এতো বড়ো হামলা আর কখনো ঘটেনি।

উত্তর সিনাই-এর প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের ওই মসজিদে হামলাটি চালানো হয়েছে। মুসুল্লিরা যখন জুম্মার নামাজের শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করছিলো তখনই একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ভেতরে ঢুকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তারপর তারা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে গুলি চালাতে থাকে।

স্থানীয় পুলিশ বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছে, চারটি গাড়িতে বন্দুকধারীরা এসেছিলো। মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হচ্ছে, হতাহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে।

হাসপাতালের লোকজন বলছে, হামলার পরপরই সেখানে অ্যাম্বুলেন্স গেলে বন্দুকধারীরা তাদেরকে লক্ষ্য করেও গুলি চালাতে শুরু করে। এর পর থেকে পুলিশ পুরো জায়গাটিকে ঘিরে রেখেছে।

হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের অনুগত জঙ্গিদের প্রায়শই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বলা হচ্ছে, ২০১৩ সালের পর সেখানে এটাই সবচেয়ে বড়ো ধরনের হামলা।

অনেকেই বলছেন, সুফিদের লক্ষ্য করেই এই হামলাটি চালানো হয়েছে। ইসলামিক স্টেট এই সুফিদেরকে খারেজি বলে মনে করে। উত্তর সিনাই-এ এই আই এস জঙ্গিরা গত কয়েক বছর ধরে বেশ তৎপর।

কায়রো থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, জঙ্গিরা সাধারণত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা করে থাকে কিন্তু এই প্রথম তারা সেখানে মসজিদের ভেতরে মুসুল্লিদের উপর হামলা চালালো।

বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল মিসর

মধ্যপ্রাচ্যের সব থেকে বড় সামরিক ঘাঁটি উদ্বোধন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মিসর। আলেকজান্দ্রিয়া প্রদেশের আল-হাম্মাম শহরে এই সামরিক ঘাঁটি উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

মিসর সরকারের দাবি, এটিই মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক সামরিক ঘাঁটি। নতুন ঘাঁটির নাম দেয়া হয়েছে, মোহাম্মদ নাগিব সামরিক ঘাঁটি।

সামরিক ঘাঁটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিসর সেনাবাহিনীর জেনারেল সিসির সাথে আরবের বেশ কয়েকটি দেশের নেতারাও হাজির ছিলেন।

মিসরের সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী শহরগুলোতে কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতেই এই সামরিক ঘাঁটি বড়সড় ভূমিকা পালন করবে।

তারা আরো জানিয়েছে, এই এলাকা মিসরের পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন মিসরের এই সব এলাকায় বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে মিসরের পর্যটন শিল্পে বড়সড় আঘাত হেনেছে। দেশের পর্যটন খাতে বিশাল ক্ষতি হয়েছে। মিসরকে আবারো পর্যটনের শীর্ষে তুলতেই এই সরকারের এই উদ্যোগ। রীতিমতো সামরিক ঘাঁটি করে দেশের নিরাপত্তার বলয় আরো আঁটসাঁট করা হচ্ছে। যাতে পর্যটন শিল্পে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ।