মায়ের গর্ভে গুলিবিদ্ধ শিশুর চিকিৎসায় বোর্ড গঠন

মাগুরায় যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ নবজাতকের উন্নত চিকিৎসায় আট সদস্যের এক মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে এ মেডিকেল বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল কাজলকে প্রধান করে ৮ সদস্যের এ বোর্ড গঠন করা হয়।
শিশু ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা হাসিনা শিউলী দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিশুটি পরিপূর্ণ নয়। মায়ের আট মাস গর্ভাবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে সিজারের মাধ্যমে ভূমিষ্ট হয়েছে শিশুটি। স্বাভাবিক ওজন আড়াই থেকে কেজি তিন কেজি হওয়ার কথা থাকলেও শিশুটির ওজন মাত্র দুই কেজি। সে এখনও পর্যন্ত ভালো আছে। তবে চোখে ও পিঠে গুলি লাগার কারণে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
এরই মধ্যে চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ২০৫ নম্বর ওয়ার্ডে আগাগোড়া তুলায় মোড়ানো অবস্থায় শুয়ে আছে নাজমার মেয়েটি।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও শিশুটির চাচা কামরুল ভূঁইয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলী আজিবরের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় নবজাতকের মা নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হয়। মুমূর্ষু নাজমা ভর্তি আছেন মাগুরা সদর হাসপাতালে। আর শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রবিবার ভোরে ঢাকায় নিয়ে আসেন ফুফু শিউলি বেগম ও স্বজনরা। শিশুটির কোনও নাম রাখা হয়নি বলে হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রারে নাম লেখা হয়েছে ‘নাজমা’স বেবি’।
শিশুটির ফুফু শিউলি জানান,এলাকার মানুষ ছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মা-মেয়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়েছে।
ফুফু শিউলি বলেন, ‘এখনও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। ছোট্ট ভাতিজি আগে প্রাণে বাঁচুক তারপর নাম তো রাখাই যাবে।’

You Might Also Like