মাহমুদুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কানাডিয়ান তদন্ত সংস্থা

নাইকো রিসোর্সের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কানাডিয়ান তদন্ত সংস্থা।

ঢাকা সিএমএম আদালতের কনফারেন্স রুমে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল ইসলামের উপস্থিতিতে তদন্ত সংস্থার ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তাকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা পর্যন্ত ওই জিজ্ঞাসাবাদ চলে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এটর্নি জেনারেল এবং মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী বেরিয়ে এলে বিভিন্ন মিডিয়ার লোকজন তাদেরকে ঘিরে ধরলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে অস্বীকার করেন।

তবে মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম জানান, এই জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে আদালতের আদেশে তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই তারা এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য রাখতে পারছেন না।

তবে সূত্র জানিয়েছেন, ফেনী, ছাতক ও কামতা গ্যাস ফিল্ড এ গ্যাস উত্তোলনে কাজ পাওয়ার জন্য এবং গ্যাস অধিক মূল্যে পাইয়ে দেয়ার জন্য চুক্তি সম্পাদনে ঘুষ প্রদানের বিষয়ে কানাডায় নাইকো রিসোর্সেসের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলছে। ওই তদন্তের অংশ হিসেবেই মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মাহমুদুর রহমান ওই সময় জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ১১ এপ্রিল থেকে কারাগারে থাকা মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কানাডিয়ান তদন্ত সংস্থা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করলে বাংলাদেশ সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ঢাকার সিএমএম বরাবর একটি আবেদন করেন।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম বিকাশ কুমার সাহা একটি বিবিধ মামার মাধ্যমে মাহমুদুর রহমানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ অনুযায়ী মাহমুদুর রহমানকে কাশিমপুর কারাগার থেকে রোববার ওই আদালতে হাজির করা হয়।

আরও উল্লেখ্য, নাইকোর ঘুষ সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের আদালতে দুইটি মামলা বিচারাধীন। একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে এটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

অপর মামলাটি গ্যাস অধিক মূল্যে পাইয়ে দিতে নাইকোর কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ী ঘুষ গ্রহণের জন্য সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা। এই মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও নাইকো দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটি মামলা হলেও ওই মামলায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল হয়।

You Might Also Like