হোম » মালয়েশিয়ায় যারা সেকেন্ড হোম গড়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তাদের ওপর নজর রাখছে

মালয়েশিয়ায় যারা সেকেন্ড হোম গড়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তাদের ওপর নজর রাখছে

ঢাকা অফিস- Saturday, July 15th, 2017

মালয়েশিয়া সরকারের “মাই সেকেন্ড হোম “ কর্মসূচির আওতায় অন্তত: সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি সেদেশে তাদের দ্বিতীয় গৃহ গড়ার অনুমতি পেয়েছেন।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি নিয়ে এক জাতীয় কর্মশালায় দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নাজরি আজিজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাজরি আজিজ আরও জানিয়েছেন, ওই কর্মসূচির আওতায় ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ার অনুমতি পেয়েছেন ১২৬টি দেশের ৩৩ হাজার ৩শ’ জন।

আবেদনকারীরা ভিসা নবায়ন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু ও অন্যান্য সম্পদ ক্রয়ের কারণে মালয়েশিয়ার রাজস্ব আয় হয়েছে ২৯০ কোটি রিঙ্গিত।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ প্রকাশিত ওই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটির ৮ হাজার ৭১৪ ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছেন। এরপরের অবস্থানে আছে জাপান (৪ হাজার ২২৫ জন)। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। এরপর কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের অবস্থান।

মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সেকেন্ড হোম প্রজেক্ট প্রথম চালু হয় ২০০২ সালে। এর আওতায়, ২০০৩ সালে প্রথমবার বাংলাদেশিরা আবেদন করেন। তখন থেকে এ পর্যন্ত মোট আবেদন করেছেন প্রায় ৮ হাজার ৩৫০ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে অনুমতি পেয়েছেন ৩৫৪৬ জন।

পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, যে সব বাংলাদেশী মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন বাংলাদেশি টাকায় জনপ্রতি খরচ হয়েছে ১২ কোটি টাকা। ওই হিসেব অনুযায়ী যে সব বাংলাদেশি সেখানে সেকেন্ড হোম করেছেন তারা প্রায় ৪২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় নিয়ে গেছেন।

মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত এ প্রোগ্রামে মালয়েশিয়ার ২৩৮টি এজেন্টের বাইরে অনুমোদিত এজেন্ট নেই। কিন্তু দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় এ জন্য বাংলাদেশে সাব-এজেন্টের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এখন বিভিন্ন অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে।

এ প্রসংগে সিংগাপুর-মালয়েশিয়ায় ভিসা ও টিকেট সেবা প্রদান করে এমন একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তা জানান, গড়ে মাসে পাঁচ-ছয়টি আবেদন পরে। এর মধ্যে দু-একটি পরিবারও থাকে যাদের পাসপোর্টে সেকেন্ড হোম ষ্টীকার লাগানো পাওয়া যায়। তাদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে ভিসা লাগে না ; আর সিংগাপুরের ভিসা পেতেও অসুবিধা হয় না ।

এদিকে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম গড়েছেন এমন বাংলাদেশিদের ওপর নজরদারি শুরু করেছে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সেকেন্ড হোমের সুযোগ নিয়ে অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মালয়েশিয়ার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এনবিআর। গত বছরের শেষের দিকে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের যুগ্ম পরিচালক সাব্বির আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়।

ওই কমিটির কার্য পরিধি সংক্রান্ত এনবিআরের আদেশে বলা হয়, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করছে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাশাপাশি দুদকের এক উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ টিম সেকেন্ড হোম নেয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এ দুই সংস্থার বাইরে ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাধারী রয়েছে এমন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

দুদক ও এনবিআর তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছে, এ সুবিধা পেতে মালয়েশিয়ার ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রাখতে হলেও এদেশের সুযোগ গ্রহণকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় অনেকে সেকেন্ড হোম সুবিধা নিয়ে থাকেন। এ কারণে সরকার পরিবর্তনের সময়গুলোয় সেকেন্ড হোম প্রোগ্রামে আবেদনের হিড়িক পড়ে যায় বলে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ধারণা।