মালিকিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকের শিয়া প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চাইছেন না মার্কিন নেতারা। দেশটির বর্তমান সঙ্কটের জন্য মালিকিকে দায়ি করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি করেছেন কংগ্রেস সদস্যরা।

বুধবারের বৈঠকে তারা ইরাকী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এ বিষয়ে খোলাখুলি কিছু না বললেও মালিকির প্রতি স্পষ্টতই হতাশ ওবামা প্রশাসন।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বুধবার সামরিক অভিযানের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য কংগ্রেসের উর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। বৈঠকে কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী মালিকির ব্যর্থ নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন এবং তার পদত্যাগের দাবি জানান। রিপাবলিকান দলের সিনেটর জন ম্যাককেইন ইরাকে বিমান হামলার পক্ষে মত দিলেও মালিকির পদত্যাগের জোর দাবি জানান। তিনি ওবামাকে বলেন, এটা এখন স্পষ্ট যে মালিকিকে আর ক্ষমতায় রাখা যাবে না।

এর আগে মার্কিন জেনারেল মার্টিন ডিম্পসে মার্কিন সিনেটকে জানান, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী জঙ্গি সংগঠন আইএসআএলের বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিমান হামলার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেবে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে বিমান হামলার বিষয়ে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কংগ্রেসের বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল প্রধানমন্ত্রী মালিকির সমালোচনা করে বলেন, ইরাকের বর্তমান সরকার কখনোই সে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায় যেমন শিয়া, সুন্নি, কুর্দিদের একত্রিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারিনি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নেও মালিকির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনিই দায়ি এবং তার অদক্ষ শাসনের কারণেই ইরাকে আজ এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হন মালিকি। গত আট বছর ধরে তিনি ক্ষমতা ধরে রাখলেও ইরাকের সুন্নী সম্প্রদায় তার শিয়া অধ্যুষিত সরকারের প্রতি গোড়া থেকেই বিক্ষোভ জানিয়ে আসছিল। তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ফসল আজকের আইএসআইএল বিদ্রোহী গোষ্ঠির এই আগ্রাসন।

You Might Also Like