হোম » মার্কিন নির্বাচন : দেশপ্রেমের জয়

মার্কিন নির্বাচন : দেশপ্রেমের জয়

এবনে গোলাম সামাদ- Wednesday, November 16th, 2016

এবার বাংলাদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে যত আলোচনা হলো, আগে কখনো তা হয়নি। আমি নয়া দিগন্তে (২ নভেম্বর ২০১৬) একটি খবর পড়ে খুবই বিস্মিত হয়েছিলাম। যাতে বলা হয়েছিল, হিলারির নির্বাচনী প্রচারণায় সরব বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান গেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তারা নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে দিয়েছেন বক্তৃতা, বলেছেন বাংলাদেশী মুসলিম বংশোদ্ভব মার্কিনি ভোটারদের হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেয়ার জন্য। শওকত মাহমুদ বিশেষভাবে বলেন, হিলারি ক্লিনটন হচ্ছেন সভ্যতার পক্ষের প্রার্থী। তিনি চাচ্ছেন ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি অধিকার রক্ষা করতে। হিলারি হচ্ছেন প্রথম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী, যিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার আগেই দুইবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। সুতরাং তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। অন্য দিকে, মাহিদুর রহমান বলেন, ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিকে রক্ষা করতে হলে হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জানি না তারা কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এ রকম বক্তৃতা দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। আর দল হিসেবে বিএনপি তাদের এরকম বক্তৃতা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিল কি না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। বক্তব্য দেয়া হয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষেও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ছিল নিরপেক্ষ। কিন্তু দল হিসেবে বিএনপি নিরপেক্ষ থাকতে চায়নি। অন্তত নয়া দিগন্তের খবরটা পড়ে আমার কাছে তাই মনে হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। সে দেশের নাগরিকেরা কাকে ভোট দেবে, সেটা তাদের ঘরোয়া রাজনীতির ব্যাপার। বাইরের কোনো রাষ্ট্রের উচিত নয় এ ব্যাপারে কোনো পক্ষ গ্রহণ করা। আমরা কী চাইব, আমাদের কোনো নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক, রিপাবলিকান অথবা আর কোনো দলের লোক এসে দেশে কোনো দলের পক্ষ নিয়ে প্রচারকার্য চালাক? সর্বোপরি ভোট হচ্ছে একটি গোপন ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে যত দূর সম্ভব গোপনীয়তা অবলম্বন করে চলাই উচিত। জানি না কেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভব মার্কিন নাগরিকেরা হিলারি হিলারি করে এত উন্মত্ত হতে পেরেছিল। এখন যদি ট্রাম্প সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর কোনো হামলা হয়, তবে সেটার জন্য তাদেরই দায়ী থাকতে হবে। দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তাদের রক্ষা করতে পারবে না। এটা তাদের উপলব্ধি করা উচিত ছিল। একটা জিনিস আমার কাছে যথেষ্ট অদ্ভুত মনে হয়। তা হলো, মার্কিন ধনতন্ত্রকে সমালোচনা করা। মার্কিন ধনতন্ত্র যদি এতই রদ্দি ব্যাপার হয়, তবে সে দেশে আমরা ভাগ্য খোঁজার জন্য এত ছুটে যেতে চাচ্ছি কেন? নিজেদের দেশে শাক-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাই কি আমাদের জন্য যুক্তিযুক্ত নয়? মার্কিনিরা কেউ ছুটে আসছে না আমাদের দেশে বাস করার জন্য; কিন্তু আমরা ছুটে যাচ্ছি যুক্তরাষ্ট্রে। আবার একই সাথে বলছি যুক্তরাষ্ট্র হলো বর্ণবাদী। আমাদের এই মনোভাবকে আমার কাছে মনে হয় খুবই আত্ম-অসঙ্গতিপূর্ণ।

বিএনপি দল হিসেবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে লড়লেন মার্কিন জাতীয়তাবাদ নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে তাকে সঙ্কীর্ণমনা বলার যুক্তি কোথায়। জাতীয়তাবাদ আজকের দিনে রাজনীতির একটি বিরাট বাস্তবতা। অতীতেও মার্কিনিরা যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। মার্কিনি জাতীয়তাবাদের ওপর নির্ভর করে উদ্ভব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। হঠাৎই মার্কিন জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটেছে, বাস্তব ঘটনা তা নয়। এর আছে একটা বিশেষ ইতিহাস। যে ইতিহাস বিশ্লেষণ না করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে উপলব্ধি করা যেতে পারে না। আজকের মার্কিন জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটেছে নিউ ইংল্যান্ডকে কেন্দ্র করে। নিউ ইংল্যান্ড বলতে বোঝায় আটলান্টিক সমুদ্রের ধারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি আদি অঙ্গরাষ্ট্রকে। এই ছয়টি অঙ্গরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল ইংল্যান্ড থেকে যাওয়া ইংরেজি ভাষী প্রটেস্টান্ট পিউরিটান খ্রিষ্টানদের উপনিবিষ্ট হওয়ার ফলে। মার্কিন জাতীয়তাবাদের আদি উৎস হলো শ্বেতকায় ইংরেজি ভাষী পিউরিটানদের জাতীয় চেতনা। এদের নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে মূলত বর্তমান মার্কিন সভ্যতা। ডোনাল্ট ট্রাম্প যে মার্কিন সভ্যতার জয়গান করে নির্বাচনে বিজয়ী হলেন, সেটা মূলত নিহিত আছে এই আদ্য-মার্কিন জাতীয় চেতনার মধ্যে। ডোনাল্ট ট্রাম্প অবশ্য ইংরেজ বংশোদ্ভব নন। তার পিতৃকুল হলেন জার্মান আর মাতৃকুল হলেন স্কচ। স্কচরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল ইংরেজদের সাথ ধরেই। আমরা কিছু বাংলাদেশী মাত্র কিছু দিন আগে গিয়েছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আমরা কী করে ভাবতে পারি, দেশটির রাজনীতিতে আমাদের পক্ষে রাখা সম্ভব একটা বিরাট ভূমিকা। যেটা ঐতিহাসিক কারণেই সম্ভব নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলমানদের বিরুদ্ধে কিছু বক্তব্য রেখেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষের উদ্ভব হতে পেরেছে ২০০১ সালে নিউ ইয়র্কে টুইন টাওয়ারে এবং ওয়াশিংটন ডিসির কাছে অবস্থিত পেন্টাগনের ওপর কিছু মুসলিম তরুণ বিমান নিয়ে হামলা করার পর। তবে ট্রাম্প বলেননি, তিনি সব মুসলিম অভিবাসীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করবেন। আমাদের দেশের ওপরেও অনুরূপ হামলা হলে আমাদের মনে জাগতে পারত একই রকমের প্রতিক্রিয়া। বর্তমান ওবামা সরকার যে মুসলমানদের শরিক সরকার, এ রকম কথা বলা যায় না। ওবামা পাকিস্তানে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ঢোকেন। মার্কিন সৈন্য দিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে খুন করিয়েছেন এবং লাদেনের লাশ নিক্ষেপ করিয়েছেন সমুদ্রে। বর্তমানে সিরিয়ায় যা ঘটছে, তার মূলেও আছেন তিনি। ক’দিন আগে তুরস্কের এরদোয়ান সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন তিনি। ওবামা যা করেছেন, তাকে বলা চলে অত্যন্ত নোংরা রাজনীতি। আর এই ওবামার আন্তরিক সমর্থন নিয়ে হিলারি চেয়েছিলেন নির্বাচনে জয়ী হতে।

জানি না কেন হিলারিকে মুসলমানেরা ভাবতে পেরেছিল তাদের কাছের মানুষ, আর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শত্রু। সাংবিধানিক দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলো ধর্মনিরপেক্ষ; কিন্তু মার্কিন রাজনীতিতে আছে ধর্মের বিরাট প্রভাব। জন ফিডজিরল্ড কেনেডি (১৯১৭-১৯৬৩) প্রথম ক্যাথলিক খ্রিষ্টান, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। এর আগে এবং পরে আর কোনো ক্যাথলিক খ্রিষ্টান মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। তিনি মারা যান টেক্সাস অঙ্গরাষ্ট্রের ডালাস শহরে, ঘাতকের গুলিতে। তার এই মৃত্যু এখনো হয়ে আছে রহস্যময়। তার ছোট ভাই সিনেটর রবার্ট কেনেডিকে ১৯৬৮ সালে গুলি করে মারা হয় লসঅ্যাঞ্জেলস শহরে। যখন তিনি নিরত ছিলেন তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য নির্বাচনী প্রচার অভিযানে।

ল্যাটিনরা হলো গোঁড়া ক্যাথলিক খ্রিষ্টান। প্রটেস্টান খ্রিষ্টানরা তাই চায় না মেক্সিকো থেকে বা ল্যাটিন আমেরিকার আর কোনো দেশ থেকে অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসুক এবং বাড়–ক ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সংখ্যা। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই একই সাধারণ মনোভাবের পরিচয় বহন করছেন। তিনিও চান না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোপের প্রভাব বাড়–ক। ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক এস পি হান্টিংটন তার সভ্যতার সঙ্ঘাত (Clash of Civilizations ) নামক গ্রন্থে বলেছিলেন যে, প্রটেস্টান খ্রিষ্টান সভ্যতার সাথে মুসলিম সভ্যতার সঙ্ঘাত অনিবার্য হয়ে উঠবে। অর্থাৎ কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নামী দামি অনেক অধ্যাপক মুসলিম সভ্যতার সাথে খ্রিষ্টান সভ্যতার বিশেষ করে প্রটেস্টান খ্রিষ্টান সভ্যতার সঙ্ঘাত নিয়ে কথা বলেছেন। আর এদের চিন্তাচেতনায় নিয়ন্ত্রিত হতে পারছে মার্কিন মানস-জগৎ। যারা এই জগতের খবর রাখেন, তাদের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়কে বিস্ময়কর মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা, এর মূলে আছে একটি বিস্তীর্ণ মানসিক পটভূমি। হঠাৎই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবির্ভাব ঘটেনি।

আমি নায়া দিগন্তে (১৩ আগস্ট ২০১৬) একটা সংবাদ নিবন্ধ লিখেছিলাম। যার শিরোনাম ছিল হিলারি নির্বাচনে হেরে যেতেও পারেন। কেননা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে খুবই রক্ষণশীল দেশ। মানুষ সেখানে এখনো মনে করে না কোনো মহিলার পক্ষে রাষ্ট্র চালানো সম্ভব। খ্রিষ্টানরা মাত্র ক’দিন আগেও কোনো মহিলাকে বিশব পদে অধিষ্ঠিত করতে চাইত না। এ পর্যন্ত কোনো মহিলা পাননি ধর্মীয় খুব উচ্চ সম্মান। খ্রিষ্টানদেরও কোনো মহিলা নবী নেই। এ পর্যন্ত কোনো মহিলা হননি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের পোপ। হিলারি তাই বিবেচিত হবেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার উপযুক্ত, এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই। তিনি তার লিঙ্গের কারণে নির্বাচনে হেরে যেতেই পারেন। অন্য দিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন মার্কিন জাতীয়তাবাদের কথা। বলছেন স্বদেশপ্রেমের কথা। তাই তিনি জিতে জেতেও পারেন। কেননা স্বদেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের আবেগ মানুষকে প্রভাবিত করে খুবই উগ্রভাবে। আমি জানি, আমার লেখাটি এ দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজে হয়েছিল নিন্দিত; কিন্তু এখন নিশ্চয় আদ্রিত হওয়া উচিত বাস্তববাদী হিসেবে। কেননা, ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন বহু ভোটেই বিজয়ী। এখন কারো পক্ষেই উপলব্ধি করা অসম্ভব হবে না, আসলে মার্কিন জনমত চলেছে কোন পথে।

জনমত জরিপ সম্পর্কে দু-এক কথা বলা প্রয়োজন। জনমত জরিপের প্রবর্তন করেন মার্কিন পরিসংখ্যানবিদ জর্জ গ্যালাপ ১৯৩৫ সালে। জনমত জরিপে পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে কিছু লোককে বেছে নিয়ে তাদের প্রশ্ন করে মতামত জরিপ করা হয়। এই পদ্ধতিকে গ্যালাপ পোলও (Gallup Poll) বলা হয়; কিন্তু এই পদ্ধতি যে খুবই সুষ্ঠু হতে পেরেছে, তা নয়। অনেক সময় গ্যালাপের পদ্ধতিতে মতামত জরিপের ফল হতে পেরেছে ভুল। যেমন ১৯৪৯ সালে হ্যারি ট্রুম্যান যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ান, তখন গ্যালাপ পোল করে ফল এসেছিল, ট্রুম্যান নির্বাচনে হেরে যাবেন; কিন্তু ট্রুম্যান জিতেছিলেন নির্বাচনে। গ্যালাপ পোলে ভুল হওয়ার কারণ অনুসরণ করতে গিয়ে জানা যায়, জনমতের জরিপ করা হয়েছিল প্রধানত টেলিফোনের মাধ্যমে; কিন্তু তখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়িতেই টেলিফোন ছিল না। অর্থাৎ যাদের টেলিফোন ছিল না, তারাই ছিল সংখ্যায় বেশি। তাদের ভোটেই জয়ী হন ট্রুম্যান। এবারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও জনমতের জরিপ ভুল প্রমাণ হলো। কেন, কী কারণে এতগুলো সংস্থার কৃত জরিপ মিথ্যা প্রমাণিত হলো, বিশেষজ্ঞরা সেটা খুঁজে পেতে পারবেন বলেই ধারণা করা যায়। তবে এখন নানা দেশে পত্রপত্রিকায় জরিপের ফল ইচ্ছাকৃত মিথ্যাভাবে প্রকাশ করা হয়। যার লক্ষ্য হয় জনমতকে প্রভাবিত করা এবং ব্যক্তি বিশেষকে ভোটে জয়ী করা। অনেক নামীদামি পত্রিকাও এটা করে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনমত ব্যাপারটা ঠিক কী ছিল, সেটা নিয়ে এখন আর বিতর্ক তোলা যায় না। কেননা, ট্রাম্প নির্বাচনে জিতেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনে জয় মিথ্যা নয়; মিথ্যা হলো জনমত জরিপের ফলাফল। তা সে ফলাফল যে কারণেই মিথ্যা হোক না কেন।

আমাদের পত্রপত্রিকাগুলো এই মিথ্যা জরিপে হয়েছিল বিশেষভাবে প্রভাবিত। তারা ভেবে দেখেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও ইতিহাসজাত জাতীয়তাবাদ নিয়ে। এখানেই ছিল তাদের একটা বড় রকমের ভুল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবারের নির্বাচন মার্কিন জাতীয়তাবাদের দ্বারা হয়েছে নিয়ন্ত্রিত। ট্রাম্প প্রতিভাত হয়েছেন একজন মার্কিন দেশপ্রেমিক হিসেবে, যা তাকে জয়ী করে তুলেছে। বলা হচ্ছিল, ট্রাম্প নারীবিদ্বেষী। বলা হচ্ছিল, ট্রাম্প নারীপ্রিয়; কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, ট্রাম্পই হিলারির চেয়ে শ্বেতকায় প্রটেস্টান নারী ভোট পেলেন বেশি।

নির্বাচনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাষ্ট্রে নির্বাচনের পর গোলযোগ ঘটেছে; কিন্তু মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নিয়মতান্ত্রিক সুপ্রতিষ্ঠিত প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র। মানুষ সেখানে তাদের সংবিধানকে মর্যাদা দেয়ার কথাই শেষ পর্যন্ত ভাববে। গণ্ডগোলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হতে বাধা দেয়া সম্ভব হবে না। তা ছাড়া নির্বাচনে ভোট চুরির কথাও উঠছে না। ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক দল চাইবে না অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা দখল করতে। আর সেটা সম্ভবও নয়। বলা হচ্ছে, বিশ্বের বাজারে মার্কিন ডলারের দাম পড়ে গেছে; কিন্তু এটা একটি সাময়িক ব্যাপার। যেটা স্থায়ী হবে বলে মনে করার কোনো অর্থনৈতিক কারণ নেই। বিদেশের বাজারে বহু ভুতুড়ে মার্কিন ডলার আছে। এরা মার্কিন মুদ্রাবাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য দেশে মুদ্রাবাজারে বহু দিন ধরেই বিরাজ করছে। এদের দ্বারা বিদেশী বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে বিদেশী পণ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপন্ন পণ্যদ্রব্য নয়। মার্কিন অর্থনীতি মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদেশ থেকে সে বেশি জিনিস নিজ দেশে আমদানি করে না। মার্কিন ডলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হয়ে উঠেছিল প্রায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা। কিন্তু মার্কিন ডলার এখন আর সে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত নয়, অনেক দিন হলোই।