‘মারো, আসো আমার গালে জুতা মারো’: আইভী

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সমর্থিতরা। এ সময় নগর ভবনে জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার প্রতিনিধিরা অবস্থান করছিলেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগর ভবনের সামনের রাস্তায় অনির্ধারিত এ কর্মসূচির জন্য জড়ো হন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র ব্যানারে মেয়র আইভীর ছবি দিয়ে ইংরেজি ও বাংলায় লেখা ছিল ‘জনগণের টাকা আত্মসাৎকারী আইভি ও সুফিয়ান গংদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর, বিচার কর’, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিগত দিনের বিভিন্ন কাজের অনিয়ম দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির তদন্ত কর’, ‘দুর্নীতিমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সিটি মেয়র আইভিসহ সকল দুর্নীতিবাজদের শাস্তি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান।
মানববন্ধন শুরুর কিছু পরেই গাড়ি নিয়ে নগর ভবনে আসেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ সময় মানববন্ধন থেকে নেতাকর্মীরা ‘আইভীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ স্লোগান দেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী গাড়ি থেকে নেমে স্লোগান শুনে তাঁদের সামনে যান এবং বলেন, ‘মারো, আসো আমার গালে জুতা মারো’। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাদের স্লোগান চালিয়ে যেতে থাকেন।
যদিও এ নিয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী টিভি ক্যামেরার সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওরা যখন স্লোগান দিচ্ছে আমি তখন গাড়ি থেকে নেমে বলেছি, আয়, তোরা কে আমার গালে জুতা মারবি- আয়, মার। ওরা কেউ এগিয়ে আসেনি। আমাকে জুতাও মারেনি। আমার দুর্নীতির অভিযোগ এর আগেও এরা তুলেছে, কোনোকিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, যুবলীগ নেতা আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, শাহ নিজাম, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরাফাত সানিসহ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ‘উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে মেয়র আইভী। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সময় আসছে নারায়ণগঞ্জের জনগণ তাদের ট্যাক্সের পয়সার হিসাব নেবে।’ তিনি নগরবাসীকে আহ্বান করেন, ‘বৃষ্টির পরে তাঁর বাড়ি গোয়ালপাড়ায় গিয়ে চা খেতে। তখনই দেখতে পারবেন জলাবদ্ধতার করুণ চিত্র।’
যুবলীগ নেতা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল বলেন, শামীম ওসমানকে দেখলেই আইভীর গা জ্বলে ওঠে। তিনি শামীম ওসমানকে সহ্য করতে পারেন না। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এলাকায় নিয়ে সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনা ফেলেন আইভী। এ জন্য দুই লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছে সিটি করপোরেশন- এটা কি দুর্নীতি না?
বাদল আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আর বেশি দেরি নাই। আগামীতে আপনি মেয়র হতে পারবেন না বলেই আপনি পাগল হয়ে গেছেন। আমরা আপনার দুর্নীতির কথা বলি বলে আমাদের এখন কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দেন।’

You Might Also Like