মাদারীপুরে মেয়ে খুনের দায়ে মা ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আলাপের সুত্র ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে প্রেমিককে নিয়ে নিজের মেয়েকে খুন করার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদ- ও জরিমানা হয়েছে মা ও প্রেমিকের প্রেমকের।

বুধবার দুপুরে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা জজ আবদুল মান্নানের আদালত এই দুইজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয় আদালত।

দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পশ্চিম রাজৈর গ্রামের সেলিম মিয়ার মেয়ে মুক্তা আক্তার (২৮) এবং ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার মহেষখালী গ্রামের হানিফ মুন্সীর ছেলে সবুজ মুন্সি (৩৩)।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী এডভোকেট এমরান লতিফ জানান, মুক্তা ও সবুজের মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। ফোনে কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা তাদের সম্পর্কের মধ্যে মুক্তার আড়াই বছরের শিশুকন্যা তাজমীন কে বাধা মনে করে। দুইজনে মিলে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। গত ১১ সালের  ২৩ ডিসেম্বর রাতে টেকেরহাট ব্রীজের উপর থেকে তানজীম কে কুমার নদীতে ফেলে দেয়।  পরদিন লাশ নদীতে তার লাশ মিলে। এরপর মুক্তার স্বামী এমদাদুল হক বাদি হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার একদিন পর মুক্তা ও সবুজকে ভোলা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তারা দুই জনেই ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়। এরমধ্যে আসামিরা জামিন পেয়ে আর হাজির হননি। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন। আদালত উপযুক্ত প্রমানাদি শেষে এ রায় দিয়েছেন।

You Might Also Like