হোম » ‘মাদক নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো’

‘মাদক নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো’

ঢাকা অফিস- Thursday, October 12th, 2017

স্বামীর মাদকাসক্তি নিয়ে অনেক দিন ধরে সংসারে অশান্তি চলে আসছিল। বার বার বারণ করা সত্ত্বেও স্বামীকে ঠেকাতে পারছিলেন না সোমা আক্তার (২৮)। স্বামী মনির হোসেন বিরক্ত হয়ে সোমাকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে।

রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গত শুক্রবার সোমাকে গলা কেটে হত্যা করার পর মনির হোসেন আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

বুধবার বিকেলে বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ মিয়া বলেন, ‘মনির হোসেন এখনও সুস্থ হননি। সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। সোমার স্বজনদের বক্তব্য এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় মনে হচ্ছে মাদকের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও বেশকিছু কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সোমার বড় বোন রেহানা আক্তার বলেন, ‘মনির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। প্রায়ই সোমার সঙ্গে মনিরের ঝগড়া হতো। মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেলে সোমাকে মাঝে মধ্যেই মনির মারধর করতেন। বাবার বাড়ি থেকেও কয়েক বার টাকা নিয়েছেন সোমা। তারপরও নিজের মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সহ্য করে সংসার করছিলেন তিনি। কে জানতো এভাবে বোনকে জীবন দিতে হবে।’

তিনি সোমা হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, মনির চাকরি বা ব্যবসা কিছুই করতেন না। মধ্য বাড্ডায় পৈতৃক জমিতে টিনশেড ঘর আছে। সেখান থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়া পান। এ টাকা দিয়ে সংসার চালান। মাদকের টাকাও এখান থেকেই নিতেন। আর মাদকের টাকার যোগান দিতে গিয়ে সংসার ঠিকমতো চলতো না। এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো।

এদিকে বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন মনির। শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় কৃত্রিমভাবে শ্বাস নিচ্ছিলেন। পাশে স্বজনেরা বসে ছিলেন।

চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা এতোটা চরম পর্যায়ে হচ্ছিল সেটা জানা ছিল না। তাহলে হয়তো ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন কি করবো?’

উল্লেখ্য, শুক্রবার মধ্য বাড্ডার লুৎফুন টাওয়ার এলাকায় ব্যাপারী বাড়িতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে প্রথমে হত্যা করে মনির। এরপর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই দম্পতির মারিয়া নামে একমাত্র শিশুকন্যা রয়েছে।