মাওলানা আব্দুস সুবহানের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া দুইটি অভিযোগে পৃথকভাবে যাবজ্জীবন ও একটি অভিযোগে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডের সাথে অন্যান্য সাজাও একীভূত হবে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের মোট নয়টি অভিযোগের মধ্যে ছয়টিতে মাওলানা সুবহানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অপর তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের ১, ২, ৩, ৪, ৬ ও ৭ নম্বর এই ছয়টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়া হয়। এছাড়া ৫, ৮ ও ৯ নম্বর এই তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

১, ৪ ও ৬ নং অভিযোগের প্রত্যেকটিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২ ও ৭ নম্বর অভিযোগের প্রতিটিতে যাবজ্জীবন ও ৩ নং অভিযোগে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায় প্রদানের আগে মাওলানা সুবহানকে বেলা ১১টায় এজলাসে আনা হয়। এ সময় স্বাভাবিক ছিলেন। রায় প্রদান শেষ হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

গত ৪ ডিসেম্বর মাওলানা সুবহানের মামলার বিচারিক কার্যক্রম সমাপ্ত করে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

ট্রাইব্যুনাল রায়ের দিন ঘোষণা করার পর মাওলানা সুবহানের আইনজীবী মো: শিশির মনির বলেন, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা শেখানো মতে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মামলায় ছয়জন সাক্ষী রয়েছেন ঘটনার সময় যাদের বয়স ছিল দুই বছর ছয় মাস থেকে ছয় বছর। তারা ট্রাইব্যুনালে অপরাধ সংঘটনের ঘটনা দেখার কথা বলেছেন। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ দেয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না। আমরা আশা করি মাওলানা সুবহান ন্যায়বিচার পাবেন এবং অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন।

অন্য দিকে প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আসামির বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করছি।

মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের ৯টি অভিযোগের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে ৩১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গত ১৭ নভেম্বর থেকে এ মামলার অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ২৭ নভেম্বর আসামিপক্ষেরও যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়।

গত ১৫ অক্টোবর এ মামলার স্যাগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন আদালত। গত ৭ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ২৭ মার্চ মাওলানা আবদুস সুবহানের মামলা ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।

গত বছরের ১ জানুয়ারি মাওলা না আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৯টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানকে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

You Might Also Like