হোম » মরিশাসের নিচে ‘হারানো মহাদেশ’

মরিশাসের নিচে ‘হারানো মহাদেশ’

ঢাকা অফিস- শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭

ভারত মহাসাগরে দ্বীপদেশ মরিশাসের নিচে একটি হারানো মহাদেশের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গ্রীষ্মপ্রধান মরিশাস দ্বীপটি প্রায় ৯০ লাখ বছর আগে অাগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু গবেষকরা আকর্ষণীয় এই দ্বীপে সম্প্রতি এমন এক ধরনের খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছেন, যা কয়েক শ কোটি বছর আগের পাথরের সঙ্গে মিশে ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার উইটওয়াটারস্রান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক অধিকতর গবেষণার পর দাবি করেছেন, প্রায় ২০ কোটি বছর আগ যখন মহা মহাদেশ (সুপার কন্টিনেন্ট) গন্ডোয়ানাল্যান্ড খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়, তখনকার একটি অনাবিষ্কৃত বিচ্যুত খণ্ডের ওপর মরিশাস দাঁড়িয়ে আছে। গন্ডোয়ানাল্যান্ড ভেঙে কয়েকটি অংশে আলাদা হয়ে গিয়ে তৈরি হয় আফ্রিকা, ভারত, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা।

হারানো মহাদেশ সম্পর্কে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে। প্রধান গবেষক লুইস আশওয়ালের দাবি, ‘দুই অংশে পৃথিবী গঠিত। মহাদেশ ও মহাসাগর। পৃথিবীর বয়সের তুলনায় মহাদেশগুলো পুরোনো এবং মহাসাগরগুলো তরুণ। যেসব মহাদেশে পাথর পাওয়া যায়, সেগুলোর বয়স প্রায় ৪০০ কোটি বছর। তবে মহাসাগরে এ ধরনের কিছু পাওয়া যায় না, যদিও মহাসাগরেই নতুন পাথর তৈরি হয়।’

আশওয়াল আরো বলেন, ‘মরিশাস এমন একটি দ্বীপ যেখানে ৯০ লাখ বছর আগের কোনো পাথর পাওয়া যায় না। কিন্তু এই দ্বীপের একখণ্ড পাথর পর্যালোচনা করে আমরা জিরকন পেয়েছি, যার বয়স ৩০০ বছরের বেশি।’
জিরকন একধরনের খনিজ, যা মহাদেশের গ্রানাইট থেকে উৎপন্ন হয়। জিরকনে খুবই সূক্ষ্মভাবে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ও লেড মিশে থাকে। এসব উপাদান থাকা মানে ভূতাত্ত্বিক গঠনের সমৃদ্ধ রেকর্ড ধারণ করা এবং এসব উপাদানের কারণেই সঠিকভাবে সময়-কাল নির্ধারণ করা যায়।

অধ্যাপক আশওয়াল আরো বলেন, ‘এই সময়ে সেখানে জিরকন পাওয়ার অর্থ দাঁড়ায়, মরিশাসের নিচে আরো ক্রাস্টাল উপাদান রয়েছে, যা শুধু একটি মহাদেশ থেকেই পাওয়া যায়।’

এই প্রথম মরিশাসে জিরকন পাওয়া গেছে, তা নয়। এর আগে ২০১৩ সালে সৈকতের বালিতে জিরকন পাওয়া যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ভূবিজ্ঞানীদের অনেকে তা মরিশাসের জিরকন বলে মেনে নেননি। সমুদ্রে ভেসে আসা বা অন্য কোনো মহাদেশ থেকে কোনোভাবে চলে আসা জিরকন বলে অভিহিত করেন তারা। তবে এবার বিজ্ঞানী আশওয়ালের দাবি, তারা যে জিরকন পেয়েছেন, তা ভারত মহাসাগরে তলিয়ে থাকা অনাবিষ্কৃত মহাদেশের উপাদান।

বিজ্ঞানী আশওয়ালের দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে হারানো মহাদেশ বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর গঠনের আরো তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।