মমতাকে উচ্ছেদে সশস্ত্র লড়াইয়ের ডাক মাওবাদীদের!

গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মাওবাদীদের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজি রাখঢাক না-করে ঘোষণা করেছিলেন- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তাঁরা। সেই ঘোষণার পরে প্রায় পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে। জঙ্গলমহলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন কিষেণজি।

সেই মাওবাদীদের ‘কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো’ এখন বিবৃতি দিয়ে জানাচ্ছে, তাদের কাছে ‘মমতার আসল চরিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে’। এতটাই পরিষ্কার হয়েছে যে, ‘মমতা সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে লালগড় আন্দোলনের মতো দুর্বার ও সশস্ত্র জঙ্গি আন্দোলন’ গড়ে তুলতে রাজ্যের জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানাচ্ছে মাওবাদীরা। ভারতের মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরোর এই প্রকাশ্য বিবৃতিটি খুবই তাৎপর্যবাহী।

মাওবাদীদের দাবি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সরকারে আসার পরে জনগণের মৌলিক সমস্যার একটিরও সমাধান হয়নি। তৃণমূল আমলে উৎকোচ গ্রহণ ও দুর্নীতি অনেকটাই বেড়েছে- সারদা কেলেঙ্কারি যার একটা নমুনা মাত্র।… আসলে ক্ষমতায় আসার জন্য মাওবাদীদের ব্যবহার করেছেন মমতা ও তাঁর দল’। ওই বিবৃতিতেই দাবি করা হয়েছে, মাওবাদীদের পলিটব্যুরো সদস্য ও ‘লালগড় আন্দোলনের প্রিয় নেতা’ কিষেণজিকে হত্যার ষড়যন্ত্রে ‘মমতার লিপ্ত থাকার ঘটনা আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।’

‘পশ্চিমবঙ্গের জনগণের কাছে সিপিআই (মাওবাদী)-র আহ্বান’ শীর্ষক এই বিবৃতিটিতে বলা হয়েছে, মমতার ‘প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র’ যেমন তাঁর সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, তেমনই গত সওয়া চার বছরে মমতা নিজের মুখোশ নিজেই উন্মোচন করেছেন। উদাহরণ হিসাবে মাওবাদীরা বলছে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে কোনও মাওবাদী বন্দির ক্ষেত্রেই তিনি সেটা প্রয়োগ করেননি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও মমতা আজও সেটা করেননি।

মমতা ২০১০-এর ৯ আগস্ট লালগড়ে এক জনসভায় ‘মিথ্যা সংঘর্ষে মাওবাদী নেতা কমরেড আজাদকে হত্যা করা হয়েছে’ বলে সুবিচার চান। মাওবাদীদের বক্তব্য, নিজেকে প্রগতিশীল হিসেবে জাহির করতেই মমতা ওই কথা বলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সেই সব বিশ্বাস করে তাঁর প্রতি মোহগ্রস্ত হয়েছিলেন। ‘ক্ষমতায় এসে মমতা ১৮০ ডিগ্রি ডিগবাজি খেয়েছেন’- মন্তব্য মাওবাদীদের।

মাওবাদীদের বিবৃতি নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কিছু বলতে চাননি।

তবে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসকদল মার্কসবাদি কমিউনিস্ট পার্টি সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমের মন্তব্য, ‘মাওবাদীরা তো নিজেরাই ব্যবহৃত হয়েছেন। তৃণমূলের মতো দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন।’ সেলিমের কথায়, ‘কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে কিষেণজি-মমতার এই নীতি কিন্তু সবাই মেনে নেবে না।’ একই সঙ্গে সেলিমের হুঁশিয়ারি, ‘মাওবাদীরা যদি ফের হিংসার পথে ফেরে, তা হলে আমরা তীব্র প্রতিবাদ করব।’

You Might Also Like