‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভবনা নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিতে কেউ ভুল করে থাকলে ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৫টায় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে কেন্দ্রে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরকারের আঁতাতের বিষয়টি নাকচ করে দেন তিনি। দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক এসে প্রতি বছরের মতো এবছরও আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির দিশারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে যেসব ফোরাম ও দ্বি-পাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে সেগুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম এ মোমেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগেরও আহবান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়ণে তার ব্যক্তিগত আগ্রহের কথা তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ৪০ বছর আগে বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে যে নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ এখনও তা মেনে চলছে।

দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা বিরোধীদলের সংজ্ঞা জানতে চান। তিনি বলেন, দেশে এমন কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে সংলাপে বসার প্রয়োজন। নির্বাচন কে বানচাল করতে চেয়েছিল, তারা রাজনৈতিক ভুল করেছিল। ভুলের মাসুল তাদেরকেই দিতে হবে। এখন আলাপ করে তাদেরকে কী ক্ষমতায় আনতে হবে? তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। তাদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র দুর হচ্ছে। প্রবৃদ্ধি ছয় ভাগ অর্জিত হয়েছে। এমন অবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বা ভাবনার কোন কারণ নেই।

জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আঁতাত হয়নি। আঁতাত হলে বিচার কী করে হয়—এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। সাঈদীর ফাঁসির রায়তো আমি দিইনি, আদালত দিয়েছে। বিচারটা এত দিন পরে আওয়ামী লীগ করছে বলেই কী এসব প্রশ্ন উঠছে।

দুর্নীতি বিষয়ক একটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দুর্নীতি হলে উন্নতি হতো না। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়নি এমন চ্যালেঞ্জ আগেই দিয়েছিলাম। এখন প্রমাণিত হয়েছে এই প্রকল্পে কোন দুর্নীতি ছিলো না। গত পাঁচ বছরে ১১,৭৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, দুর্নীতি হলে তা সম্ভব হতো না বলেও জানান তিনি। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল, তারা তা প্রমাণ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে।
শিক্ষার ওপর তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষাই দারিদ্র থেকে দেশকে মুক্তি দেবে। আর সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এরই মধ্যে তার সরকার ১ লাখ ৩৩ হাজার নারী শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

সমুদ্র জয়ের পর এখন সমুদ্রের সম্পদ আহোরনের জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করতে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিতে আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের মানুষকে একটি সুন্দর জীবন দান ও জীবনকে অর্থবহ করাই তার সরকারের লক্ষ্য।

শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতে কি নিয়ে আলোচনা হতে পারে এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুভেচ্ছা বিনিময় হবে। তবে তিনি আরো বলেন, তার সরকারের আমলেই ভারতের সঙ্গে সীমান্তে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের সুযোগ হয়েছে। এমনকি ভারত থেকে ফেনীর ৪৫ একর জমিও তার সরকারই দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ প্রসঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পানি কেউ আটকে রাখতে পারবে না, দিতেই হবে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অনেকের কাছেই রোল মডেল হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের যেখানে যেই ফোরামেই তিনি কথা বলেছেন প্রশংসা পেয়েছেন। সবারই মুখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার কথা শোনা যায়। তিনি বলেন, জাতির পিতার যে সোনার বাংলার স্বপ্ন ছিলো, সেই স্বপ্ন আজ আন্তর্জাতিক নেতাদের কাছেও স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রবাসী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশাকরি এ কথা শুনে আপনাদেরও ভালো লাগে।

You Might Also Like