ভোট কেনার টাকাসহ ৯ বিএনপি কর্মী আটক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৯ নেতাকর্মীকে ভোট কেনার টাকাসহ আটকের দাবি করেছে পুলিশ। তবে নেতাকর্মীদের আটের বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলেছে বিএনপি।

রোব ও সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটকৃতরা হলেন; হাজারীবাগ থানা যুবদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আলাউদ্দিন, বিএনপি কর্মী মো. ফিরোজ মিয়া ও মাসুদ। এছাড়ও মিরপুর মডেল থানা পুলিশ শারফিন নামে এক যুবকসহ আরো ছয়জনকে তিন লাখ টাকাসহ আটক করেছে।

বিএনপি এই আটকের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘তাদের সমর্থিত প্রার্থী ও সমর্থকদের হয়রানী এবং সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে গ্রেফতারের নাটক সাঁজিয়েছে পুলিশ।’

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান বলেন, গতকাল পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এটা পুরোটাই নাটক সাঁজিয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়রানী ও ভোটারদের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টির জন্য বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ। তারা আসামি ধরার নামে অভিযান চালিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে। কোথাও তাদেরকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। অথচ পুলিশ বলছে ভোট কেনার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মী টাকা ছড়াচ্ছে। কালকের ঘটনাটি পুরোটাই নাটক সাঁজিয়েছে পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ভোট কেনার দরকার নেই। লক্ষ লক্ষ ভোটারকে কোন দিন টাকা দিয়ে কেনা যায় না। জনগণ আমাদের ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে পুলিশী এই নাটকের জবাব দিবে।’

এরআগে সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নগদ অর্থ দিয়ে ভোট ক্রয়ের চেষ্টাকালে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৩ নেতাকর্মীকে টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হাজারীবাগ থানা যুবদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আলাউদ্দিন, বিএনপি কর্মী মো. ফিরোজ মিয়া, মাসুদ।

হাজারীবাগ থানার ওসি কাজী মাঈনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আলাউদ্দিন হাজারীবাগ থানাধীন গণকতলী এলাকায় সোমবার দিবাগত রাতে নগদ টাকা দিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট ক্রয় করছে। এ অভিযোগে ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকাসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া, রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, রমনা থানাধীন ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ আমির হোসেনের পক্ষে চল্লিশ ঘর বস্তি এলাকায় সোমবার রাতে ভোট কেনার জন্য ভোটারদের নগদ টাকা দেয়। এসময় তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১২,৫০০টাকা উদ্ধার করা হয়।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খিলক্ষেত থানাধীন মধ্য পাড়াএলাকায় সোমবার ভোর ৪ টার দিকে ভোটারদের কাছ নগদ টাকা দিয়ে ভোট ক্রয়ের চেষ্টাকালে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৫,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এরপর সোমবার বিকেলে মিরপুর মডেল থানা তিন লাখ টাকাসহ আরো ছয়জনকে আটক করে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন রাতে চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ভোট কেনা বেঁচার নাটক সাঁজিয়ে অনেকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বিপুল পরিমাণ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছিল।

You Might Also Like