ভেঙে গেল সুনামগঞ্জের পাকনা হাওরের বাঁধটিও, দিশেহারা কৃষকেরা

প্রবল বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আধপাকা বোরো ধান। সোমবার ভোরে উড়ার বাঁধ ভেঙে হাওরের পানি ঢুকতে শুরু করে। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এই হাওরটির প্রায় সম্পূর্ণ ফসল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে।

জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার উপজেলার ১৩টি হাওরে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়। ছোটখাট বিল ছাড়া কোন হাওরের ফসলই এখন আর অবশিষ্ট নাই। একে একে সবগুলোই পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জেলার অপরাপর হাওরের মতো এই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। এই বাঁধটি রক্ষার জন্য স্থানীয়রা কয়েকদিন ধরে স্বেচ্ছা শ্রম দিয়ে মাটি ফেলেছিল। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি তাদের আবাদের ফসল। আজ সকালে পানির চাপে দুর্বল ভিত্তির বাঁধটি ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার কারণে দিশেহারা হাওরপাড়ের কৃষকেরা। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা।

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতেও থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আজ (সোমবার) সকালেও ভারি বৃষ্টি হয়েছে। আর এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, খেটে খাওয়া লোকজনসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। বৃষ্টির কারণে কর্মস্থলে বা কোনও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। তার ওপর রাস্তার পানি জমে যাওয়ায় বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন। আবার রাস্তা খোঁড়াখুড়ির অনেক সড়কে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানি জমে যাওয়া বুঝে উঠতে না পেরে দুর্ঘটনায় পড়ছে যানবাহন ও পথচারীরা।

ওদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ কারণে ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও দু’একদিনের মধ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সোমবার সকালে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সদরঘাট থেকে সারাদেশে লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। #

পার্সটুডে

You Might Also Like