ভিসা জটিলতা নিরসন করা হবে : ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার

ভিসা জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী। তিনি বলেছেন, ‘অত্যাধিক ভিসা আবেদনের চাপের কারণে সৃষ্ট জটিলতা অচিরেই নিরসনের চেষ্টা করা হবে। ভিসা প্রাপ্তির ব্যাপারে সহজ প্রক্রিয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গোটা বাংলাদেশ ও ভারত সাতক্ষীরাবাসীর পাশে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদকে কখনই প্রশ্রয় না দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে জঙ্গিবাদের মোকাবিলা করবে।’

রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কলারোয়ার গণসমাবেশ, সীমান্তবর্তী সোনাবাড়িয়া শ্যামসুন্দর মন্দির, কেঁড়াগাছিতে শ্রী শ্রী ব্রক্ষ্ম হরিদাস ঠাকুরের জন্মভিটা আশ্রম মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সন্দীপ চক্রবর্তী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধার চেতনায় আমরা অনুপ্রাণিত।’

সোনাবাড়িয়া ও কেঁড়াগাছিতে শাঁখ বাজিয়ে, উলুধ্বনি ও পুষ্পপাপড়ি বর্ষিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় প্রধান অতিথি সন্দীপ চক্রবর্তীকে।

সন্ধ্যার দিকে প্রায় পৌনে ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক সোনাবাড়িয়ার শ্যামসুন্দর মন্দির পরিদর্শনকালে সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুপ্রতিম দুটি রাষ্ট্র। আমাদের এ বন্ধুত্ব চিরকাল অটুট থাকবে।’

সেখান থেকে তিনি পৌছান কেঁড়াগাছিতে শ্রীশ্রী ব্রক্ষ্ম হরিদাস ঠাকুরের জন্মভিটা আশ্রম মন্দির প্রাঙ্গণে। মন্দিরে প্রার্থনা শেষে সেখানে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে গিয়ে আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে পুরোনো সব মন্দির সংস্কারের উদ্যোগী ভূমিকা নিবেন বলে আশ্বাস দেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলারোয়া ফুটবল মাঠের গণসমাবেশে যোগ দেন তিনি।

এসব অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ‘আত্মার মধ্যে যে ধর্ম আছে, সেটি আসল মানবধর্ম। সাতক্ষীরার মাটিতে জঙ্গিবাদের কবর দিতে হবে।’

পৃথক এ তিনটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (কলারোয়া-তালা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি, ভারতীয় হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সিলর সুজিত ঘোষ, ভারতের শীর্ষ দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা’র প্রধান বার্তা সম্পাদক অনমিত্র চ্যাটার্জি, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদ, সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর নাজির আল বকসী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, প্রাক্তন সংসদ বি এম নজরুল ইসলাম, ইউএনও অনুপ কুমার তালুকদার।

অনুষ্ঠানগুলোতে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক এম এ ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ সরদার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন সাহা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক জনতা উপস্থিত ছিলেন। কলারোয়া ফুটবল মাঠে গণসমাবেশ শেষে দেশবরেণ্য ব্যান্ড ‘দলছুট’সহ বিভিন্ন শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

You Might Also Like