ভিলেজ ক্রিকেট থেকে ওয়ার্ল্ড কাপ

সিন্ধু নদের অববাহিকায় তার বাড়ি। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই চলে যেতেন মাঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলতো লেগস্পিন বোলিং চর্চা। মায়ের ডাক কিংবা বাবার বকুনি, কোনো কিছুই কানে তুলতেন না। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মিয়ানওয়ালি জেলার ক্রিকেটপাগল সেই ছেলেটির নাম শাদাব খান। গত অক্টোবরে পা রেখেছেন ২০-এ। এবার পাকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপ খেলছেন তিনি।

স্পিন অলরাউন্ডার শাদাব খানের জাতীয় দলে অভিষেক দু’বছর আগে। ইতিমধ্যেই ৩৪ ওয়ানডে খেলে ফেলেছেন তিনি।

২৭.৭৪ গড়ে নিয়েছেন ৪৭ উইকেট। পাশপাশি ২৯.৪ গড়ে রান তুলেছেন শাদাব। ৩টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসও আছে তার। শাদাবের বাল্যকালের কোচ সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, ‘আমি শাদাবকে বলতাম ব্যাটিং অনুশীলন করতে। একসময় দেখা গেল, সে কেবল ব্যাটিংই করতে চাইছে। এরপর আমি তাকে অলরাউন্ডার হওয়ার পরামর্শ দিলাম। ও আমার কথা রেখেছিল।’

খেলার মাঠে সব সময় খুব সিরিয়াস থাকতেন শাদাব। বেশি সময় যেন অনুশীলন করতে পারেন সেজন্য রাত ৯টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়তেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজা ফলক শের বলেন, ‘একবার আমরা লাহোরে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েছিলাম। ম্যাচ শেষে বন্ধুরা মিলে পাশেপাশের এলাকা ঘুরতে বের হই। কিন্তু সেদিনও শাদাবের রুটিন বদলায়নি। ও বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। আর এ কারণেই আজ সে এই পর্যায়ে।’

পাকিস্তানের বয়স ভিত্তিক দলগুলোতে পারফরম্যান্স দিয়ে সবার নজরে আসেন শাদাব। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে আসেন শাদাব। ওই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের হয়ে যৌথভাবে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। কয়েক মাস পরই পাকিস্তানের হয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় এই লেগির। এরপর শ্রীলঙ্কা-এ দলের বিপক্ষে বল হাতে ৫ উইকেট ও ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮ রান করেন শাদাব। ওই ম্যাচে জয় পায় তার দল। তবে শাদাব আলোচনায় আসেন ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ে-এ দলের বিপক্ষে পারফরম্যান্স দিয়ে। প্রথম ইনিংসে ১৩২ ও ৪ উইকেট নেন শাদাব।

আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে জেতান দলকে। ওই বছরের ২৬শে মার্চ ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় শাদাবের। অভিষেকেই ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা! দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তার বোলিং ফিগার ছিল ৪-১-১৪-৪! এবারো শাদাব ম্যাচসেরা।

টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পান শাদাব। পরের মাসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় তার। তিন ম্যাচ সিরিজে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন শাদাব। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে তিনি। সমসাময়িক ক্রিকেটারদের ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও শাদাব কিন্তু তার বন্ধুদের ভুলে যাননি। সুযোগ পেলেই বাল্যকালের খেলার সঙ্গী ও কোচদের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে যান শাদাব। সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, সিদ্দিক আকবর ক্লাবের হয়েই শাদাব ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিল। এখন সে ক্লাবের সমস্ত খরচের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। শাদাব আসলে তার মূল ভুলেনি।

You Might Also Like