<p>সাগরে ভাসমান অভিবাসীদের সাময়িক আশ্রয় </p><p>দেবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া</p>

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে অসহায়ভাবে নৌকায় ভাসতে থাকা হাজারো অভিবাসন-প্রত্যাশীদের সাময়িক আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। এতে সাগরে ভাসমান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘অভিবাসী সংকট’ নিয়ে বুধবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফা আমান জানান, দুটো দেশ সাগরে ভাসমান আনুমানিক ৭,০০০ অভিবাসীকে সাময়িক আশ্রয় দেবে। তবে তিনি দাবি করেন যে আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের পুনর্বাসন ও প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্পদায়কে।

কুয়ালালামপুরে বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশ তিনটি হলো ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। সাগরে নৌকায় ভাসতে থাকা হাজারো অভিবাসন-প্রত্যাশীদের তীরে ভিড়তে না দেওয়ায় এই দেশ তিনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে পড়ে।

এদিকে আঞ্চলিক অভিবাসী সংকট সমাধানে প্রথমবারের মতো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। এত দিন দেশটি এই সংকটের দায় অস্বীকার করে আসছিল।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানায়, আঞ্চলিক অভিবাসী সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের সঙ্গে একমত ইয়াঙ্গুন। সমুদ্রে বাড়াই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, তাদের মানবিক সহায়তা দিতে মিয়ানমার প্রস্তুত।

আঞ্চলিক অভিবাসী সংকটের দায় প্রশ্নে মিয়ানমার যে কিছুটা নমনীয় হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতিটি সেটাই ইঙ্গিত করছে।

সম্প্রতি মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয় থাইল্যান্ড সরকার। এরপর প্রায় তিন হাজার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসন-প্রত্যাশীকে পাচারকারীরা জরাজীর্ণ ও ভিড়ে ঠাসা নৌকায় রেখে পালিয়ে যায়।

একপর্যায়ে ওই অভিবাসন-প্রত্যাশীদের তীরে ভিড়তে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড।

অনাহারী এসব অভিবাসী এক দেশের জলসীমা থেকে আরেক দেশের জলসীমায় ঘুরতে বাধ্য হয়। এর মধ্যেই বুধবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

You Might Also Like