ভালোবাসার জন্য রাজপরিবার ত্যাগ

ভালোবাসার জন্য রাজপরিবার ত্যাগ করছেন জাপানের প্রিন্সেস মাকো। সাধারণ এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেম করে বিয়ের পরিকল্পনা করায় তাকে রাজকীয় মর্যাদা ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে সংসার বাঁধার স্বপ্নে যুগে যুগে বহু মানুষ পরিবার ত্যাগ করেছে। বিশ্বের প্রভাবশালী রাজপরিবারগুলোতেও এ ধরনের দৃষ্টান্ত রয়েছে।

উত্তরাধুনিক জাপানে শুধু প্রিন্সেস মাকো-ই নন, ২০০৫ সালে তাদের রাজপরিবারের আরেক সদস্য সাধারণ নাগরিককে বিয়ে করে রাজকীয় মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন।

জাপান সম্রাট আকিহিতোর নাতনি প্রিন্সেস মাকো একটি আইন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও আইনজীবী কেই কোমুরোর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন। আগামী বছর বিয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়ার সময় ২৫ বছর বয়সি মাকো ও তার সমবয়সি বন্ধু কোমুরোর প্রণয় হয়। এই প্রণয়কে পরিণয়ে রূপ দিতে রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে মাকোকে।
জাপানের রাজপরিবারের নিয়ন রয়েছে, কোনো প্রিন্সেস সাধারণ নাগরিককে বিয়ে করলে তাকে রাজকীয় মর্যাদা ত্যাগ করতে হবে।

মাকোর এই সিদ্ধান্তে রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরো জোরালো হলো। সম্রাট আকিহিতো শিগগিরই সিংহাসন ত্যাগ করতে চলেছেন।

২০১২ সালে টোকিওর আন্তর্জাতিক ক্রিষ্টিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটি রেস্তরাঁয় প্রথম দেখা হয় মাকো ও কোমুরোর। দুজনেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এখন কী হবে?
রাজপরিবার থেকে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, প্রিন্সেসের বাগদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে উপঢৌকন বিনিময়ের পরই কেবল বাগদান সম্পূর্ণ হবে। জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এইচএনকে জানিয়েছে, আগামী বছর নাগাদ বিয়ে হতে পারে।

বাগদানের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার কোমুরো বলেন, ‘এখন এ বিষয়ে মন্তব্যের সময় নয়, তবে সঠিক সময়েই এ নিয়ে আমি কথা বলব।’

এর আগে রাজপরিবারে যা ঘটেছিল
২০০৫ সালে প্রিন্সেস মাকোর ফুফু প্রিন্সেস সায়াকো এক সাধারণ নাগরিককে বিয়ে করে রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যান। এটিই ছিল জাপানের রাজপরিবারে এ ধরনের প্রথম ঘটনা।
টোকিওর নগর সরকারের এক নগর পরিকল্পনাবিদকে বিয়ে করেছিলেন প্রিন্সেস সায়াকো। এ বিয়েকে জৌলুসহীন বর্ণনা করা হয়েছিল। পরিস্থিতির সঙ্গে মালিয়ে নিতে তাকে পরিবার ত্যাগ করতেই হয়।

রাজপ্রাসাদ ছেড়ে এক বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে হয় প্রিন্সেস সায়াকোকে। তাকে গাড়ি চালানো শিখতে হয়, সুপারমার্কেটে বাজার করতে ও অসবাবপত্র কিনতে শিখতে হয়।

রাজপরিবারে মাকোর সিদ্ধান্তের প্রভাব
সম্রাট আকিহিতো গত বছরের আগস্ট মাসে ৮৩ বছর বয়সে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, বয়সের কারণে রাজদায়িত্ব পালনে অসুবিধা হওয়ায় তিনি সিংহাসন থেকে সরে দাঁড়াবেন। গত দুই শতকে কোনো জাপানি সম্রাট পদত্যাগ করেননি এবং বর্তমান আইনও তা সমর্থন করে না। কিন্তু এখন সম্রাটকে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ার আইনি বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে নুতন যে আইন করার চিন্তা করা হচ্ছে, তাতেও শুধু পুরুষদের সম্রাট হওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

বর্তমানে জাপান সম্রাটের চার উত্তরাধিকারী রয়েছেন। তার হালেন- আকিহিতোর দুই ছেলে ক্রাউন প্রিন্স নারুহিতো ও প্রিন্স ফুমিহিতো এবং ফুমিহিতোর ছেলে প্রিন্স হিসাহিতো ও আকিহিতোর ছোট ভাই প্রিন্স মাসাহিতো।

প্রিন্সেস মাকোর বাগদানের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহাইড সিগা বলেছেন, রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী নির্বাচনের টেকসই আর কোনো প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

You Might Also Like