ভার্জিনিয়ার বৈশাখী মেলায় সাংস্কৃতি পিপাসুদের ঢল

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় গত ১৩ এপ্রিল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা। আর বাংলা নববর্ষ ১৪২৬কে স্বাগত জানিয়ে ‘প্রভাতি’ আয়োজন।

ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলী আয়োজিত মেট্রো ওয়াশিংটন ডিসি’র সর্ববৃহৎ এই বৈশাখী মেলা মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় আর্লিংটন গেটওয়ে পার্কে। ওয়াশিং মেট্রো এরিয়ার বিশিষ্ট সংষ্কৃতিসেবি আবু রুমি পরিচালিত বাংলা বর্ষবরণ প্রভাতী ও বৈশাখী মেলা ছিল নিউ ইয়র্কের বাইরে এবারের বড়   আকর্ষণ। নাচ, গান ও কবিতায় এই আয়োজন মুখরিত হয়ে উঠে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রবাসের সাংস্কৃতি পিপাসুদের পদচারণায় ।

দর্শকশ্রোতাদের ভষ্য মতে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম নিউইয়র্কের পরে ভার্জিনিয়ায় বর্ষবরণ ‘প্রভাতী’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রভাতি অনুষ্ঠান শেষে দুপুর থেকে শুরু হয় বৈশাখী মেলা। এই বৈশাখী মেলায় মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসি’র স্থানীয় শিল্পীরা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগত ও প্রবাসে বসবাসরত বিভিন্ন স্টেটের শিল্পীরা সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। তাদের গানে গানে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন শেষ পর্যন্ত।

মেট্রো ওয়াশিংটনের বাইরে থেকে আগত যে সব শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন তারা হলেন- মেহের আফরোজ শাওন, শাহ মাহবুব, জিন্নাত আরা মুনা, আজিজুল হেকিম, জীনাত হাকিম ও অনিমা ডি কস্টা অন্যতম।

এছাড়াও হুমায়ন আহম্দের একটি বইএর দোকান মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। মেহের আফরোজ শাওন হুমায়ুনভক্ত ও সাহিত্যপিপাষু ক্রেতাদের বইয়ে অটোগ্রাফ দেন। হুমড়ি খাওয়া ভিড় সামলাতে শেষ পর্যন্ত ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলী কর্তৃপক্ষ সিকিউরিটি নিয়োগ করতে বাধ্য হন।

আবু রুমি আয়োজিত এবারের বৈশাখী মেলাটিতে বাংলাদেশী আবহ তৈরি করতে নাগর দোলা ও গ্রামবাংলার ঢেকি দিয়ে সাজানো হয়েছিল। তাতে এই প্রবাসের মাটিতে ছোট্ট একটি বাংলাদেশ ফুটে উঠেছিল! এছাড়াও রকমারি পোশাক, গহনা ও বাংলাদেশী হরেকরকমের খাবারের দোকান ছিলো মেলার অন্যরকম আকর্ষণ। স্থানীয় পুলিশ প্রধানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ মেলায় উপস্থিত হয়ে বাংলা কমিউনিটিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলীর সভাপতি আবু রুমি বলেন, ভবিৎষতে আমরা বৈশাখী মেলাকে আরো ভালোভাবে সাজাবো যা প্রবাসে দৃষ্টান্ত হবে এবং বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা বাড়াবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শুভেচ্ছা বাণী পাওয়ার পর আমাদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা আরো বেড়ে গেছে যা কি না ভবিৎষতে এ ধরণের অনুষ্ঠান করতে আরো উৎসাহিত করবে আমাদের।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে ভার্জিনিয়ায় ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলী প্রতি বছর সর্ব বৃহৎ পিঠা উৎসব ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত করে যাচ্ছে, যেন প্রবাসের মাঠিতে আমাদের নতুন প্রজন্ম বাংলার সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারে ও ভুলে না যায় বাংলার সাংস্কৃতি।

You Might Also Like