ভারত প্রসঙ্গে ফেসবুকে ফারুকীর স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড়

পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব চলচ্চিত্র নির্মাতা সরয়ার ফারুকী। এ প্রসঙ্গে তিনি সর্বশেষ স্ট্যাটাস লিখেছেন ২২ ফেব্র“য়ারি সন্ধ্যায়। এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। স্ট্যাটাসটিতে তিনি মোট ছয়টি বিষয়ে নিয়ে নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন। এই স্ট্যাটাসটি দেওয়ার পর এক ঘন্টারও কম সময়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার লাইক পরে এবং প্রচুর শেয়ার-কমেন্টসও করেছেন তার ভক্ত ও বন্ধুরা। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
ওকে, কিছু কথা তাহলে জলের মতো পরিষ্কার করে বলা দরকার। দেখা যাচ্ছে, কখনো কখনো আমার ‪#‎ংধৎপধংস‬ বুঝতে কেউ কেউ অক্ষম হচ্ছেন। আবার কখনো জাতির দ্বিধা বিভক্ত মনের প্রভাবে আমার কথাগুলোর মানে অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ইস্যুতে কথা বলার একটা ভালো বিপদ দেখা যাচ্ছে। সমস্যাটা ভারতের না। সমস্যাটা আমাদের। আমাদের মধ্যে একদল অন্ধ দালালী করতে ভালোবাসে, আরেকদল অন্ধ ভারত বিরোধীতাতে মুক্তি খোঁজে। ফলে সাদা-কালোর বাইরে এখানে আর কোন রংয়ের অস্তিত্ব স্বীকার করতে রাজি না। সেই কারনে কয়েকটা কথা নীচে পরিষ্কার করে বলে রাখি। দয়া করে সংগ্রহে রাখবেন। যাতে ভুলে গেলে খুলে পড়ে নিতে পারেন।
১. আমি আগাগোড়াই ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার নীতিতে বিশ্বাসী। পাকিস্তানের সাথেও বটে । তবে পাকিস্তানের কাছ থেকে নেয়ার বা দেয়ার খুব বেশী জিনিস যেহেতু আমাদের সামনে নাই, তাই কেবল ভারত প্রসঙ্গেই এই কথা বলছি। অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভারত একটা মহীরুহ। তার কাছ থেকে নেয়ার এবং দেয়ার আমাদের অনেক কিছু আছে।
২. ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেই আমরা আমাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টা নেগোশিয়েট করতে পারি। বার্গেইন করার অর্থ যদি আপনার কাছে ভারত-বিরোধীতা হয় তাহলে দ্রুত নিকস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন, আপনি “ালালাইটিসদ রোগে ভুগছেন। অন্যদিকে ভারতের সাথে কথা বললেই যদি কাউকে দালাল মনে করেন বা ভারতের সাথে বন্ধুত্বকে হারাম মনে করেন তাহলে আপনিও দেরী না করে হাস্পাতালে যান। আপনি দকানালাইটিসদ রোগে ভুগছেন।
৩. আমি শুধু ভারত নয়, পুরো দক্ষিন এশিয়ার সিনেমার আদান-প্রদানের পক্ষে। বাংলা-হিন্দী-মলয়ালম সব ভাষার ছবিই আদান-প্রদান হোক। তবে সেটা হতে হবে চৌকষ এবং বাস্তবায়নযোগ্য পলিসির অধীনে। এবং সেই পলিসিতে অগ্রাধিকার থাকবে দেশী ছবির। সেই পলিসি নিয়ে কথা হোক, ব্যাপক বিস্তর। এটা নিয়ে পরিষ্কার আলোচনা ও নীতি তৈরির পরই এই উদ্যোগ নেয়া উচিত। কিন্তু যদি ঐ সব দবাংলাদেশের ছবির মানোন্নয়নেরদ জন্য ভারতের ছবি আমদানী করা হোক মার্কা আধাসেদ্ধ কথা বলা হয় তখন সার্কাজম শোনার জন্য রেডি থাকা বাঞ্চনীয়।
৪. ভারতের সেরা জিনিসগুলো থেকে আমাদের ইন্সপায়ার্ড হওয়া উচিত। সেটা আম আদমী পার্টি থেকে শুরু করে আনুরাগ কাশ্যপ-আনুপ সিং-আসিম আহলুওয়ালিয়া-আনুশা রিজভী হয়ে ব্যাঙ্গালোরের আই টি সাকসেস পর্যন্ত হতে পারে।
৫. ইন্সপায়ার্ড হওয়া মানে লুটিয়ে পড়া নয়, নয় কপিক্যাট হওয়াও। ইন্সপায়ার্ড হতে গিয়ে আবার হীন্মন্যতা রোগে ভুগবেন না। তাহলে নিজের বউয়ের সব কিছুই খারাপ মনে হবে। মনে হবে সৌন্দর্য্যের ডিপো মনে হয় অন্যের বাড়ীর বউ।
৬. বিভিন্ন সময় দেখা গেছে আমাদের নিজেদের সেরা মানুষদের কীর্তিগুলোকে অন্যরা প্রশংসা করে ফাটিয়ে ফেললেও, আমরা কেবল তাদের টেনে হিঁচড়ে নীচেই নামিয়েছি। নামিয়ে এক ধরনের মর্ষকামী আনন্দ পেয়েছি। আপনার মধ্যে যদি এই প্রবণতা থাকে তাহলে জলদি স্বাস্থসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুনৎ। আপনি সম্ভবতঃ দহীনম্মন্যটাইটিসদ রোগে আক্রান্ত।

You Might Also Like