হোম » ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বিএনপির দাবি ও বিশ্লেষণ

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বিএনপির দাবি ও বিশ্লেষণ

ঢাকা অফিস- শুক্রবার, মার্চ ১০, ২০১৭

প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনে ভারত সরকারের চাপ বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ নয় বলে মনে করে বিএনপি। আজ শুক্রবার (বাংলাদেশ সময়) সকালে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে রিজভী বলেন, ভারত বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য যে চাপ দিচ্ছে, তা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সুসংবাদ নয়। এখন বাংলাদেশ সরকার কী ভূমিকা রাখবে এটিও খুব স্পষ্ট নয়। ভারত যেভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চায় তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী ও নিয়ম বহির্ভূত।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মেড ইন ইন্ডিয়া ছাপ মারতেই এই চুক্তির জন্য ভারত চাপ প্রয়োগ করছে বলে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ দানা বেধেছে। এটি বাংলাদেশের নাগরিকদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন তো নয়ই, বরং গোটা জাতিকে গভীর হতাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ভারত কোন দেশই আনুষ্ঠানিক কোন কথা বলেনি। ফলে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন বা যে যার মতো করে বক্তব্য রাখছেন। তবে বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দু’দেশ এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। আর সন্ত্রাসবাদ দমনে বন্দী বিনিময় চুক্তি, সামরিক যৌথ মহড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আছে। সেগুলোকে একটি আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে আনার জন্য এমন চুক্তির সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে তারা একমত হয় সেটা দেখার বিষয়।

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিনিময়ে প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে, এমনটাও মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক। তার মতে, তিস্তা চুক্তি ভিন্ন মাত্রার একটি বিষয়। এর আগেও তিস্তার সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির একটি কথা উঠেছিল। আর যে কোন চুক্তিতে কোন পক্ষ একটু বেশি লাভবান হয়, অন্যপক্ষ কম। কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্ক লাভ ক্ষতি দিয়ে চলে না। তবে বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ, যে কোন চুক্তিতে দেশ যাতে বেশি লাভবান হয়, তা নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করা।