‘ভদ্রলোকের মতো সারেন্ডার করবেন আশা করি’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি আশা করি, উনি আইন-আদালত মানবেন। ওনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে, উনি ভদ্রলোকের মতো কোর্টে সারেন্ডার করবেন। এটাই ভদ্রলোকের নিয়ম।’

 

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক অনুদান প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি যদি কিছুই না মানতে চান, তাহলে কিন্তু এ দেশের মানুষ তাকে ছেড়ে দেবে না। উনি আইন মানেন না, আদালত মানেন না, কিছুই মানেন না। ওনার মামলায় ৬৭টি তারিখ চলে গেছে। উনি আদালতে যান না, আর গেলেও লাঠিসোঁটা, অস্ত্র, ক্যাডার বাহিনী নিয়ে যান কোর্টকে অবমাননার জন্য।’

 

খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন- অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের কারণে দেশে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত মিলে আজ সারা দেশে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এদের মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব নেই। এরা জনগণের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজনীতি করে।’

 

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম একটি ছোট্ট শিশু ৩৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছে। এই শিশুর মৃত্যুর জন্য খালেদা জিয়া কী জবাব দেবেন? এই সাধারণ মানুষ, দরিদ্র মানুষ তাদের ওপর জুলুম কেন?’

 

বিএনপি-জামায়াত মানুষের অভিশাপেই শেষ হয়ে যাবে- মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ যখন আর্থিকভাবে সচ্ছলতা পাচ্ছে, মানুষ শান্তিতে আছে, মানুষ যখন সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে তখন তারা তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমি জানি না, মানুষের অভিশাপেই তারা শেষ হয়ে যাবে। আর আইনগতভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটা আমরা নিব।’

 

বিএনপি নেত্রীর অফিসে অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি বাড়ি ছেড়ে অফিসে গিয়ে বসে থাকলেন। অফিসে কী মধু আছে, আমি জানি না। উনি অফিস থেকে বের হন না। ওখানে বসে বসে হুকুম দেন, তার ছেলে লন্ডনে বসে হুকুম দেয় আর তাদের ক্যাডার বাহিনী, সন্ত্রাসী বাহিনী মানুষ পোড়ায়। ধ্বংস করাটাই তাদের কাজ।’

 

সাধারণ মানুষের ওপরই বিএনপি-জামায়াতের যত আক্রমণ ও ক্ষোভ বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সহিংসতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারাই জ্বালাও-পোড়াও করবে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধরতে হবে। এভাবেই থামাতে হবে তাদের।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুখের বিষয়, এখন সাধারণ মানুষ সচেতন। যারা বোমা হামলা করতে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষই তাদের ধরছে। গণধোলাই দিচ্ছে। এভাবে মানুষকেই জেগে উঠতে হবে। মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

 

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত আরো ২৩৬ জনের মাঝে মোট ৫ কোটি ৪২ লাখ ৮ হাজার টাকার সহায়তার চেক তুলে দেন। এর মধ্যে হরতাল-অবরোধের সহিংসতায় নিহত চারজনের পরিবার এবং পেট্রোল বোমাসহ ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচির সহিংসতায় আহত ৩৩ জনকে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র বাবদ মোট ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

 

পেট্রোল বোমায় নিহত সোহাগের মা দৃষ্টিশক্তিহীন সেলিনা বেগমকে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা করে আজীবন মাসোহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়াও হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭০টি গাড়ির ১৯৯ জন মালিককে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৮ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত পেট্রোল বোমাসহ হরতাল-অবরোধের সহিংসতায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের সহায়তা বাবদ প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১৪ কোটি ৬২ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় নৌপরিবহণমন্ত্রী শাহজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হকসহ সড়ক পরিবহণ মালিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like