ব্লগার অভিজিতকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী গুরুতর আহত

ব্লগার অভিজিত্‍ রায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা৷ হামলায় তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদও গুরুতর আহত হয়েছেন৷ অভিজিত্‍ মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের ছেলে৷

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মোড়ে অভিজিত্‍ রায় (৩৮) এবং তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে (৩০) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা৷ এরপর তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ সেখানে চিকিত্‍সাধীন অবস্থায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে অভিজিত্‍ রায় মারা যান৷

জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিত্‍সক একেএম রিয়াজ মোর্শেদ জানান, অভিজিতের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে৷ তিনি ব্যাপক রক্তক্ষরণের কারণে চিকিত্‍সাধীন অবস্থায় মারা যান৷Ovijit_1

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামানসহ কয়েকজন আহত অভিজিত্‍ রায় এবং তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিয়ে যান৷ সেখানে ভর্তি হওয়ার পর রাফিদা জানান যে, তাঁরা এক সপ্তাহ আগে অ্যামেরিকা থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন৷ বৃহস্পতিবার বইমেলায় ঘোরা শেষে রাত ৯টার দিকে টিএসসিতে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, যাতে তাঁরা গুরুতর জখম হন৷

তবে কে বা কারা কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে, তা কিছুই তিনি জানাতে পারেননি ব্লগার অভিজিত্‍ রায়ের স্ত্রী রাফিদা৷

ঘটনার পরপরই অধ্যাপক অজয় রায় হাসপাতালে ছুটে যান৷ তিনি বলেন, ‘‘কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমি নিশ্চিত নই৷”

ঢাকা মেডিক্যালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, ‘‘অভিজিত্‍ রায় বিদেশে থাকা অবস্থায় মুক্তমনা নামে একটি ব্লগে লেখালেখি করতেন৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি৷”

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জমানান জানান, হামলার কোনো কারণ জানা যায়নি এবং জড়িতদেরও চিহ্নিত করা যায়নি৷ পুলিশ অবশ্য হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছে৷

 

You Might Also Like