‘ব্রিটিশ সেনারাই ইরাকে শিয়া-সুন্নি মসজিদে বোমা ফাটাচ্ছে’

ব্রিটেনের একজন সাংবাদিক ও আমেরিকার গোয়েন্দা বিষয়ের বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ তথা আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের কথিত সংগ্রাম ‘লোক-দেখানো’ বা আই-ওয়াশ মাত্র! কারণ, মার্কিন সরকার এই গোষ্ঠীকে এখনও অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং ব্রিটিশ সেনারা আরবদের পোশাক পরে পর্যায়ক্রমে শিয়া ও সুন্নিদের মসজিদে বোমা পেতে রাখছে।

মার্কিন ও ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে তাকফিরি সন্ত্রাসীদের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে এ পর্যন্ত অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘনিষ্ঠতার ধরণ নিয়ে সম্প্রতি পশ্চিমারাই প্রামাণ্য নানা বই-পুস্তক প্রকাশ করছেন। ওয়েনি মেডসেন-এর লেখা ‘The Shocking Truth Behind the Army of Terror’ শীর্ষক বই হচ্ছে এমনই একটি বই।

মিশরীয় দৈনিক ‘আখবার আলইয়াওম’ এ বইয়ের একাংশে উল্লেখিত ইরাক ও আশপাশের আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু লোমহর্ষক বাস্তবতা তুলে ধরেছে।

ওয়েনি মেডসেন-এর লেখা এ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী মার্কিন সরকার দায়েশকে অস্ত্র ও অর্থ দিচ্ছে এবং কাতারের ভূখণ্ডে দায়েশ তথা আইএসআইএল-সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আরও ভয়াবহ খবর হল বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইরাক পুনর্গঠনের তহবিল থেকে ১০০ কোটি ডলার নিয়ে দায়েশসহ নানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে।

গোয়েন্দা বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ আরও জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার তার শত্রুদের মোকাবেলার জন্যই এইসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করছে; আর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে গোপনে অর্থ ও অস্ত্র দিচ্ছে।

তিনি সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন সন্ত্রাসী এবং গোয়েন্দা তৎপরতার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন যে, দায়েশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের কথিত যুদ্ধ একটা অভিনয় মাত্র। ব্রিটেনের ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ব্রিটিশ সেনারা ইরাকে আরবদের পোশাক পরে একবার শিয়া মুসলমানদের মসজিদে এবং পরের বার সুন্নিদের মসজিদে বোমা পেতে রেখে এরপর এইসব বোমা বিস্ফোরণের জন্য শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের দায়ী করছে।

You Might Also Like